প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
সুইজারল্যান্ডের বার্ন ক্যান্টন। ছবি: গেটি ইমেজস
কোনো দেশ কি তার জনসংখ্যার ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করতে পারে? সুইজারল্যান্ড এই প্রশ্নের উত্তর দেবে রবিবার।
দেশটির ভোটাররা
তাদের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ
করার প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ভোটের মাধ্যমে।
এই পদক্ষেপটি আল্পস পর্বতমালার এই দেশটিতে অভিবাসন নিয়ে সৃষ্ট বিভাজনকে উন্মোচিত করেছে।
তবে এই পদক্ষেপটি ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টির সমর্থন পেয়েছে। তারা এটিকে আবাসন, জনসেবা এবং পরিবেশের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে একটি টেকসই উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এটিকে
একটি “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী উদ্যোগ” আখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী নেতা
এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলো।
তাদের ভাষ্য, এটি হাসপাতাল ও হোটেলগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মীর সংকট দেখা দিবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবে। এর ফলে ইইউ-বহির্ভূত সদস্যদের সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করতে বাধ্য করবে, যা বিশ্বে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত হবে।
২০০২
সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লক্ষ।
যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে
দাড়িয়েছে ৯১ লক্ষ, যাদের ২৭ শতাংশ হলেন
বিদেশে জন্মগ্রহণকারী সুইস বাসিন্দা।
সুইজারল্যান্ডের সব বড় সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থায় ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে নেওয়া হয়। দেশব্যাপী ভোট নিশ্চিত করার জন্য প্রচারকদের কেবল এক লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়।
অতিরিক্ত ভিড়ের ট্রেন, দামী অ্যাপার্টমেন্ট এবং ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় নিয়ে অনেক ভোটার উদ্বিগ্ন।
সর্বশেষ
জনমত জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে
যে এই ভোটটি খুবই
হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।
ভোটাররা অতি সামান্য ব্যবধানে ‘না’ ভোটের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে ৫২ শতাংশ এর বিপক্ষে, কিন্তু জনমত জরিপে এখনও মতভেদ রয়েছে, কারণ ৪৫ শতাংশ প্রস্তাবটির পক্ষে মত দিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছেন।
হেলিন জেনিস এবং নিলস ফিখটারের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল থাকলেও, সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা সীমিত করার বিষয়ে তাদের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি।
উভয়েই অভিবাসী পরিবারের তরুণ স্থানীয় রাজনীতিবিদ। ফিখটারের বয়স ২৯ এবং জেনিসের বয়স ৩১। হেলিনের বাবা-মা মূলত তুরস্কের, অন্যদিকে নিলসের মা কানাডার এবং তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী।
বার্ন
ক্যান্টনের সংসদে সুইস পিপলস পার্টির
প্রতিনিধি ফিখটার অভিযোগ করে বলেন, “আমরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে
ফেলেছি, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের ফলে সুইজারল্যান্ড আর
সুইজারল্যান্ড থাকছে না”।
তিনি মনে করেন, অভিবাসনের ফলে সুইজারল্যান্ডের আবাসন সংকট, যানজট, স্কুলগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক পরিষেবা খাতের ওপর বিপর্যস্ততা দিন দিন বাড়ছে।
বার্ন সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়া সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট জেনিস এই যুক্তিগুলোকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা বলে খারিজ করে দিয়েছেন।
তিনি সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, “ভাড়ার হার অভিবাসীরা নির্ধারণ করে না। স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়ামও অভিবাসীরা বাড়ায় না। আবাসন, অবকাঠামো বা সামাজিক বিনিয়োগের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও অভিবাসীরা নেয় না।”
তিনি আরও বলেন, “অভিবাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাগুলোকে দেখলে সমাধানের পথ মেলে না, বরং বিভাজন সৃষ্টি হয়”।
যেসব ভোটার এখনও মনস্থির করেননি, তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, জনসংখ্যা সীমিতকরণ ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে।
বাসিন্দার সংখ্যার উপর কঠোর সীমা আরোপ করা এমন কোনো পদক্ষেপ নয় যা অন্য কোনো দেশ গ্রহণ করেছে, যদিও চীন তার বর্তমানে পরিত্যক্ত এক-সন্তান নীতির মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর চেষ্টা করেছিল।
সুইস প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের আগে জনসংখ্যা অবশ্যই ১ কোটি অতিক্রম করবে না এবং এই সংখ্যা ৯৫ লক্ষে পৌঁছালে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং বিদেশি কর্মীদের পরিবার পুনর্মিলনের অধিকার বাতিল করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
যদি ১ কোটির সীমায় পৌঁছানো হয়, তাহলে সুইজারল্যান্ড যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ইইউর অবাধ চলাচলও অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো বাতিল করতে হবে।
এই সম্ভাবনাটি সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ী সমিতির (ইকোনোমিসুইস) মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইকোনোমিসুইসের
প্রধান অর্থনীতিবিদ রুডলফ মিনশ বলেছেন, ‘প্রস্তাবটি
পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের
সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের যে
সম্পর্ক, তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে’।