× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন, ইরান চুক্তির আশা জোরদার

রয়টার্স

প্রকাশ : ২৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১৯ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন।

এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি বৃহত্তর চুক্তির সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিয়েছিল ইরান।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির শর্তে জানানো হয়, ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে তখনই যখন ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণরূপে গোলাবর্ষণ বন্ধ করবে এবং দক্ষিণ লিতানি সেক্টর থেকে তাদের সব সদস্যকে সরিয়ে নিবে।

দুই পক্ষ গত মাসেও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।  এর আগে তেহরানের সমর্থনে হামলা চালানোর অভিযোগে মার্চে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

তবে কুয়েত ও হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর ফলে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তিন মাসেরও বেশি আগে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রণালিটি অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে।

কুয়েতে হামলা

ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দর অবকাঠামো এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এ হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েত বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেনি। 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ইরানি ড্রোনগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

এর আগে ইরানের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, একটি বিমানঘাঁটি এবং ‘পানায়া’ নামে একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তাদের কোনো ঘাঁটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, তারা দক্ষিণ ইরানে নতুন করে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মাইন পাতায় ব্যবহৃত ইরানের নৌযান এবং হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপে হামলা করা হয়।

উত্তেজনায় টালমাটাল যুদ্ধবিরতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই অঞ্চলেই যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।

গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে এখনও উভয় পক্ষের অনুমোদন মেলেনি। এবং জটিল বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার লেবাননের সম্প্রচারমাধ্যম আল মায়াদিনকে বলেন, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে কোনো অগ্রগতিও হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য শুধু লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ নয়, বরং কয়েক বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রিরর মাধ্যমে আয়ের সুযোগ, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় রাখার দাবিও জানিয়েছে ইরান।

জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপের মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে, যেটি বুধবার প্রকাশ হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

পরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চলতি সপ্তাহান্তেই অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, “যদি কিছু ঘটে, তবে তা এই সপ্তাহান্তেই ঘটতে পারে।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা