প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬ ০৮:৩৬ এএম
আপডেট : ১০ ঘণ্টা আগে
১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ার গণআন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা উয়ের কাইশি তিয়ানআনমেন হত্যাকাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বর্তমানে তাইপের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী এই ভিন্নমতাবলম্বী নেতা বলেছেন, চীন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।
বুধবার টোকিওতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উয়ের কাইশি বলেন, “আমি বিশ্বকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সহজ সত্য বোঝানোর চেষ্টা করছি—চীন শুধু শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতাবলম্বীদের জন্য নয়, মানবসভ্যতার জন্যও সরাসরি হুমকি।”
তিনি অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষা করে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তার মতে, পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় চীনের অন্তর্ভুক্তি দেশটিতে নাগরিক সমাজের বিকাশ ঘটাবে এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের পথ সুগম করবে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি।
উয়ের কাইশি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের প্রতি তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিশ্বের অন্য দেশগুলো তা অনুসরণ করেছে।” তিনি দাবি করেন, চীনের শাসক দল আদর্শবাদ বা জাতীয়তাবাদ দ্বারা নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তারা চীনের পুনর্জাগরণ নিয়ে কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে তাদের লক্ষ্য শুধু নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করা। তারা সাধারণ চোর ছাড়া আর কিছু নয়।”
জার্মানিসহ অন্যান্য দেশকে চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উয়ের কাইশি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে লাভজনক ব্যবসায়িক প্রস্তাবের আড়ালে রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানির হামবুর্গ বন্দরে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশটি ধীরে ধীরে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠছে।
উয়ের কাইশি চীনের পশ্চিমাঞ্চলের উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। ১৯৮৯ সালে বেইজিং নরমাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি তিয়ানআনমেন স্কয়ারের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি পেংয়ের সঙ্গে সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচারিত বৈঠকে তিনি সরকারের সমালোচনা করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন।
তিয়ানআনমেন আন্দোলন দমনের পর থেকে উয়ের কাইশি চীনা সরকারের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন। চীন সরকার তাকে কখনও সাধারণ ক্ষমা দেবে না এবং তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না—এমন অবস্থান বেইজিং বহুবার স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে তিনি তাইওয়ানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।