প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬ ২২:১৪ পিএম
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এয়ারলাইন্স তাদের ভারতের প্রযুক্তি কেন্দ্রের জনবল আগামী বছরের শুরু নাগাদ দ্বিগুণ করে প্রায় ৮০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ভারতের হায়দরাবাদে প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪০০ কর্মী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট লক্ষ্য প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, তারা নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, হায়দরাবাদ কেন্দ্রটিতে বর্তমানে “কয়েকশ” কর্মী কাজ করছেন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি দলগুলোর পাশাপাশি কোম্পানির বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ, অ্যারিজোনার ফিনিক্স এবং ভারতের হায়দরাবাদের প্রযুক্তি দলগুলো যৌথভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ডিজিটাল রূপান্তর, নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল বিমান পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেও তারা কাজ করছে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স আরও জানায়, ২০২১ সাল থেকে তারা প্রতিবছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে আসছে।
অন্যদিকে, মার্কিন বিমান সংস্থা সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সও সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাদের হায়দরাবাদভিত্তিক গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারে (জিসিসি) কর্মী সংখ্যা প্রায় ১,০০০ জনে উন্নীত করা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভারতের দক্ষ প্রযুক্তি জনশক্তিকে কাজে লাগাতে দেশটিতে তাদের প্রযুক্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। এর মধ্যে জেপি মরগান চেজ, ওয়ালমার্ট, ম্যাকডোনাল্ডস, এনভিডিয়া এবং এলি লিলির মতো বড় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় এসব কেন্দ্র মূলত ব্যাক-অফিস কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এগুলো প্রকৌশল, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনসসহ গুরুত্বপূর্ণ মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নাসকম-জিনভভের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) হাব। দেশটিতে ২,১০০-এর বেশি জিসিসিতে প্রায় ২৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ কর্মরত রয়েছেন এবং এসব কেন্দ্র থেকে বার্ষিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে।