প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬ ২০:৩৩ পিএম
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন ও উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
উদ্ধারকর্মীরা মঙ্গলবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটা মস্কোর অন্যতম বৃহত্তম হামলা, যা আগেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দনিপ্রোতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া আট বছর বয়সী এক বালক ও এক নারীসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী কিয়েভে মারা গিয়েছেন ছয়জন ।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে, এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
পূর্ববর্তী ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
মে মাসের শেষের দিকে একটি ছাত্রাবাসে প্রাণঘাতী হামলার জন্য কিয়েভকে অভিযুক্ত করে ক্রেমলিন মঙ্গলবার জানিয়েছে যে তারা তাদের জবাব দিচ্ছে।
এদিকে কিয়েভ বলেছে, তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটে হামলা চালিয়েছে ।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, “এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে”।
তিনি দাবি করেন, এই হামলাগুলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
জেলেনস্কি সোমবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে জানান, তাদের ওপর ‘ব্যাপক হামলার’ আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষভাবে বিমান হামলার। তাই সবাইকে সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখতে তিনি আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, রাতভর (সোমবার) হামলায় রাশিয়া ৬৫৬টি ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও জাহাজ-বিধ্বংসী বিভিন্ন ধরনের ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিরোধক সরঞ্জাম প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন, বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, “সোমবার রাতে মূল হামলাটি চালানো হয়েছিল কিয়েভে, যেখানে অনেক আবাসিক ভবন এবং বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে”।
দনিপ্রোতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধারকারীরা ৮ বছর বয়সী এক বালক ও এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানজা। ওই ভবনে ১২ জন নিহত হন। তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণে আরও একটি শিশু নিহত হয়েছে।