× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরায়েলি সেনারা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম

হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট ক্যাসেল থেকে ধোঁয়া উঠছে ছবি: রয়টার্স

হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট ক্যাসেল থেকে ধোঁয়া উঠছে ছবি: রয়টার্স

২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ লেবাননে লিতানি নদী অতিক্রম করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির সেনারা বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহর উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেবাননের সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী পার হয়েছে। ইসরায়েল এই নদীকে তাদের ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সীমানা হিসেবে বিবেচনা করে।

দক্ষিণ লেবাননের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাবাতিয়েহ শহরটি বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর চাপে রয়েছে। শিয়া অধ্যুষিত এই শহরের পতন ঘটলে তা লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে নাবাতিয়েহকে দেখে থাকেন অনেক লেবাননি।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো জানান, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে এবং নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলতে অভিযান চালাচ্ছে।

তার ভাষ্য, “মনে হচ্ছে ইসরায়েল নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলার চূড়ান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে দক্ষিণাঞ্চল থেকে পশ্চিম বেকা উপত্যকাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।”

এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর কাছে একটি সামরিক যানবাহনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তাদের দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) শনিবার রাতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের জেবশিত গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত একজন প্যারামেডিক নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। হামলায় লেবানিজ রিলিফ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা নিরাপদ রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বেউফোর্ট দুর্গসংলগ্ন এলাকা। ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দ্বাদশ শতকের এই দুর্গটি ১৮ বছর ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০০০ সালের মে মাসে তারা সেখান থেকে সরে যায়।

জবাবে শনিবার উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শেমোনা শহরে রকেট হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের ঘান্দুরিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, ইয়োহমর আল-শাকিফ গ্রামের কাছে আবাবিল ড্রোন ব্যবহার করে একটি ইসরায়েলি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলের ইয়ারা ব্যারাকেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এ ছাড়া নাকুরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি কমান্ড সেন্টার এবং উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়া শহরের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।

‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ উত্তেজনা

চলমান শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করেছেন, অবস্থান করলে তারা প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষের সামনে বিকল্প আশ্রয়ের সুযোগ খুবই সীমিত। চলমান সংঘাতে লেবাননের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে, আবার অনেকে পার্ক ও খোলা জায়গায় অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে। অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের গাড়িতেই থাকতে দেখা যাচ্ছে। কিছু পরিবার ২০২৩ সাল থেকেই বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে আসছে।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরদিনই এই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম শনিবার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার নীতি’ অনুসরণ করে ইসরায়েল কখনোই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এই পথই লেবাননের জন্য সবচেয়ে কম ক্ষতিকর সমাধান।

এর আগে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান আলোচনা নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকে তারা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হন।

প্রেসিডেন্ট আউন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নতুন দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলের হামলা ও জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই সমঝোতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা