প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬ ০৯:৩২ এএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬ ০৯:৩৮ এএম
জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস। ছবি: গেটি ইমেজেস
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টার থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
বিচারক শুক্রবার দেওয়া রায়ে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্তও স্থগিত করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ দিনের মধ্যে কেনেডি সেন্টারের আনুষ্ঠানিক নাম, ভবনের সম্মুখভাগ, সব ধরনের শারীরিক ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড এবং সরকারি নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ করতে হবে।
তবে কেন্দ্রটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, “আমি যদি প্রতিষ্ঠানটিকে শারীরিক, আর্থিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার স্বাধীনতা না পাই, তাহলে এমন একটি যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার কোনো আগ্রহ আমার নেই, যা শেষ পর্যন্ত ‘নেভার নেভার ল্যান্ড’-এ পরিণত হবে।”
গত বছর ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন ট্রাস্টিকে বদলি করেন এবং নিজেও ট্রাস্টি হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গত ডিসেম্বরে বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরদিনই ভবনের সামনে ট্রাম্পের পূর্ণ নামসংবলিত নতুন অক্ষর স্থাপন করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পর অনেক শিল্পী তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করেন এবং টিকিট বিক্রিও কমে যায়।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ২০২৬ সালের ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি দুই বছরের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই সংস্কারকাজ করা হবে।
এদিকে ওহাইওর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান জয়েস বিটি এবং কয়েকজন সাবেক ট্রাস্টি ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। পরে তারা সংস্কারকাজের অজুহাতে কেন্দ্রটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মামলা সংশোধন করেন।
রায়ের পর জয়েস বিটি বলেন, “আজকের রায় স্পষ্ট করেছে যে কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন ও বন্ধ করার প্রশাসনের উদ্যোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কেনেডি সেন্টার আমেরিকার জনগণের সম্পদ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
অন্যদিকে কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র রোমা দারাভি জানান, তারা আশাবাদী যে আপিল বিভাগ ট্রাম্পের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রটির জরুরি সংস্কার প্রয়োজন এবং এ জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগে কংগ্রেস ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।
বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার তার ৯৪ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, কেনেডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে থাকবে। কংগ্রেসই এ নাম নির্ধারণ করেছে এবং কেবল কংগ্রেসই তা পরিবর্তন করতে পারে।
ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নাম আবার ‘জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে বহাল থাকবে।
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধনের সময় এ নামই দেওয়া হয়েছিল, যা ১৯৬৩ সালে নিহত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন.এফ কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।