আল জাজিরা
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬ ০৯:২০ এএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬ ১১:০৩ এএম
গাজার রাফাহ গভর্নরেটের তেল আল-সুলতান এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যরা অভিযান পরিচালনা করছে। ছবি: রয়টার্স
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সংঘটিত যৌন সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘ ‘ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে’ বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত।
এ ঘটনার পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, “এই মহাসচিবের সঙ্গে আমাদের কাজ শেষ।”
এর পাশাপাশি গুতেরেসের দপ্তরের আসন্ন প্রতিবেদনের নিন্দাও জানান তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর কাছে তা পাঠানো হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল যে, সশস্ত্র সংঘাতে যৌন সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত বা দায়ী পক্ষগুলোর তালিকায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
ড্যানন বলেন, “ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং আমাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা অত্যন্ত নিন্দনীয় সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “মহাসচিব ও তার দল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এবং হামাসের সন্ত্রাসীদের একই তালিকায় রাখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
জাতিসংঘে ইসরায়েলের মিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুতেরেস মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তার দপ্তরের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবে না তারা।
এই প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমরস্টেইন এক্সে লিখেছেন, সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সংস্থাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা লজ্জাজনক ও অযৌক্তিক।
তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করেছে, জাতিসংঘ একটি রাজনৈতিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা। যেটি তার প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা ত্যাগ করে ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।”
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, তারা ড্যাননের মন্তব্য সম্পর্কে অবগত।
তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে মহাসচিবের দরজা খোলা রয়েছে।”
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি রিম আলসালেম বলেন, যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা ‘অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল’।