× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সামরিক শাখার নতুন প্রধান নিহত

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬ ১৬:০৪ পিএম

গাজা শহরের অন্যতম ব্যস্ততম বাজার এলাকার একটি আবাসিক ভবনে মঙ্গলবার হামলাটি চালানো হয়। ছবি: রয়টার্স

গাজা শহরের অন্যতম ব্যস্ততম বাজার এলাকার একটি আবাসিক ভবনে মঙ্গলবার হামলাটি চালানো হয়। ছবি: রয়টার্স

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সামরিক শাখার কমান্ডার মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

গাজার ব্যস্ত বাজার এলাকার একটি আবাসিক ভবনে মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়।

কয়েক দিন আগেই একই ধরনের আরেক হামলায় তার পূর্বসূরিও নিহত হন।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে ওদেহর চলাফেরার ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। এর পর তাকে লক্ষ্য করে ওই ভবনগুলোতে হামলা চালানো হয়।

এ বিষয়ে হামাস এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে হামাসের একটি স্থানীয় সূত্র এবং ওদেহর স্বজনেরা জানিয়েছেন, হামলায় ওদেহ, তার স্ত্রী এবং তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন দিক থেকে প্রায় একই সময়ে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, হামলার আগে তিনি আকাশে হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে পান।

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন, আর আশপাশে ভিড় জমিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ওদেহকে নির্মূল করার যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে, গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে তার ব্যবহৃত কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার এবং তার সহযোগীদের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল।”

তারা আরও জানায়, কাছাকাছি একটি অ্যাপার্টমেন্টেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে এমন এক হামাস সদস্য থাকতেন যিনি ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ওদেহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ওদেহ ছিলেন “৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের অন্যতম পরিকল্পনাকারী”।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ওদেহ বহু ইসরায়েলি নাগরিক ও আইডিএফ সদস্যকে হত্যা, অপহরণ ও আহত করার জন্য দায়ী ছিলেন।”

এর আগে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আদ-দীন আল-হাদ্দাদ মে মাসের শুরুতে আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

সেই হামলাটিও একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে অন্তত তিনজন নিহত হন।

১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও ইসরায়েল নিয়মিত গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

হামাস বারবার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু করছে। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলি হামলায় ৯০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে তারা হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে, কারণ হামাস নিরস্ত্র হতে রাজি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপগুলো এখনও কার্যকর হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ ঘোষণা করেছিল। এতে গাজার শাসনভার একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের হাতে দেওয়ার পাশাপাশি অঞ্চলটির নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

তবে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। এদিকে হামাস আবার তাদের পুলিশ বাহিনী সক্রিয় করেছে এবং গাজায় নিজেদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার বলেন, গাজায় হামাসকে “বেসামরিক বা সামরিক—কোনোভাবেই” শাসন করতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, গাজা থেকে “স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন পরিকল্পনা” উপযুক্ত সময় ও উপযুক্ত পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

নেতানিয়াহু তার বিবৃতিতে বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত প্রত্যেককে ইসরায়েল খুঁজে বের করবে। তিনি বলেন, “শিগগির বা দেরিতে—ইসরায়েল তাদের সবার কাছেই পৌঁছে যাবে।”

হামাসের নেতৃত্বে ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ২১ লাখ বাসিন্দার বড় অংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৮০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা