দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়া শহরে ইসরায়েলি হামলা। ছবি: রয়টার্স
লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বুধবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার, নজরদারি পোস্ট ও অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা করা হয়েছে।
নেতানিয়াহু সোমবার বলেছিলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা লেবাননে আমাদের অভিযান আরও তীব্র করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আইডিএফ বড় স্থলবাহিনী নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিচ্ছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিখাই আদরাঈ বলেন, হিজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলি বাহিনী বাধ্য হয়ে অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি সামরিক ব্যারাক ও একটি সেনা পোস্টে হামলা চালিয়েছে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও দুই পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েল প্রতিদিন দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাও হুমকির মুখে পড়েছে।