ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তির চাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬ ২২:৪০ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬ ০১:৩৭ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আব্রাহাম চুক্তির পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও কয়েকটি মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই উদ্যোগ পাকিস্তানের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, কারণ দেশটির বর্তমান পাসপোর্টে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ রয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে কয়েকটি মুসলিম দেশের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া ও ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
ট্রাম্পের উল্লেখ করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দেশটির পাসপোর্ট নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানে পাকিস্তানি পাসপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে এটি ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ। ফলে নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন করে পাসপোর্টের নকশা সংশোধন এবং ধাপে ধাপে বিপুল সংখ্যক পাসপোর্ট পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে পাকিস্তান সরকার ইতোমধ্যে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ইসলামাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থানে নেই।
একই অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব ও কাতারও। দুই দেশই জানিয়েছে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেয়। তবে পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ এখনো এ উদ্যোগের বাইরে রয়েছে।