২০২৬ সালের ১৭ই মে, ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় মুসান্দাম উপদ্বীপের বন্দর নগরী খাসাবের অদূরে জাহাজগুলো নোঙর করে আছে। ছবি: এএফপি
কাতারে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা বৈঠকে বসার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের রক্ষার জন্য তারা এই ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।
নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স সোমবার গভীর রাতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা ইরানি নৌযানগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সংযম প্রদর্শন করে আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করে যাচ্ছে।”
তবে হামলার বিষয়ে এর বাইরে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সেন্টকম।
ইরানের সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সমুদ্রে একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সূত্রগুলো।
সর্বশেষ এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ অবসানের জন্য চলমান আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে।
“এই ধরনের বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি শুরুর পরপরই। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এগুলোকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেন না”, বলেন ফিশার।
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অভিযানের ব্যাপ্তি কতটা ছিল, তা আমরা জানি না।”
তার ভাষায়, “এই সংঘর্ষটি অস্বাভাবিক কি না, সেটাও এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।”
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ একটি প্রতিনিধি দল কাতারে পৌঁছেছে। এমন সময় ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “হয় সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না। এতে আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে এবং গোলাগুলি শুরু হবে, তবে তা হবে আগের চেয়েও বড় ও শক্তিশালী— আর সেটা কেউই চায় না!”
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে আসন্ন কোনো বড় ধরনের সাফল্যের সম্ভাবনার কথা তারা বলেননি।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “এটা বলা ঠিক হবে যে আলোচনায় থাকা বহু বিষয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি।”
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই আরও বলেন, এই পর্যায়ে দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে না; বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা।