হোয়াইট হাউসে কড়া নিরাপত্তায় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। ছবি: এএফপি
হোয়াইট হাউসের কাছে নিরাপত্তা চৌকিতে গুলির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের গুলিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ওয়াশিংটন ডিসির ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস চেকপয়েন্টে শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পর এই ঘটনা ঘটে।
সিক্রেট সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ব্যাগে অস্ত্র লুকিয়ে এনেছিলেন। পরে তিনি সেটি বের করে গুলি চালান। জবাবে সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গুলির ঘটনায় এক পথচারীও আহত হয়েছেন। তবে তিনি হামলাকারীর গুলিতে নাকি পাল্টা গুলির সময় আহত হয়েছেন, তা তাতক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি নিরাপদ আছেন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, “এই ঘটনা প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে কাজ করেন, তারই আরেকটি উদাহরণ।”
এদিকে রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক কিম্বারলি হালকেট জানান, হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে ৩০টির বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা সাংবাদিকদের এগোতে বাধা দেন।
এর মাত্র এক মাস আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার আরেকটি অভিযোগ সামনে আসে। গত ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ অনুষ্ঠানস্থলের কাছে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছিল।
সাংবাদিক কিম্বারলি হালকেট বলেন, “এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।”
এদিকে হামলাকারীর পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।