× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

আল জাজিরা

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ১৩:৩৯ পিএম

আপডেট : ২২ মে ২০২৬ ১৬:০৩ পিএম

সিনেট শুনানিতে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হাং কাও। ছবি:

সিনেট শুনানিতে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হাং কাও। ছবি:

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রভান্ডার সংরক্ষণ করতে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

দেশটির ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী  হাং কাও বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের এ তথ্য জানান।

ঠিক এক সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের বৈঠকে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

“এই মুহূর্তে আমরা একটি বিরতি নিচ্ছি, যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে ‘এপিক ফিউরি’-র জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ রয়েছে –যা আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে আছে,” সিনেটের প্রতিরক্ষা বরাদ্দ উপকমিটিকে বলেছেন কাও।

কাও বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা একটি বিরতি দিচ্ছি, যাতে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ মজুত রয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়— যা আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে আছে।”

“তবে আমরা শুধু নিশ্চিত করছি যে সবকিছু ঠিক আছে। এরপর প্রশাসন যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখন বৈদেশিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি আবারও চালু হবে”, জানান কাও।

কাও বলেছেন, এই বিক্রির বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত—যা তাইওয়ানে এযাবৎকালের বৃহত্তম অস্ত্র হস্তান্তর হবে—প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেবেন।

কাও বলেন,  তাইওয়ানে এযাবৎকালের বৃহত্তম এই অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে যুদ্ধ স্থগিত রয়েছে। তবে এ নিয়ে এখনও কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জানুয়ারিতে তাইওয়ানের জন্য এই অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি অনুমোদন করে। তবে এটি কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

অনুমোদন পেলে, এই বিক্রয়টি ডিসেম্বরে ট্রাম্প কর্তৃক অনুমোদিত তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড-ভাঙা ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজকে ছাড়িয়ে যাবে।

অনুমোদন পেলে এটি হবে তাইওয়ানের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হস্তান্তর। যেটি গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প কর্তৃক তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বরাদ্দকে ছাড়িয়ে যাবে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এফটিভি নিউজ অনুযায়ী, তাইওয়ান অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই।

ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, এই স্থগিতাদেশ “তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ ও সন্দেহ আরও বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চাওয়াকে তাইওয়ান সরকারের জন্য কঠিন করে তুলবে”।

ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি এই প্যাকেজ অনুমোদন ‘করতেও পারেন’, ‘নাও করতে পারেন’।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অস্ত্র বরাদ্দের বিষয়টিবকে তিনি ‘আলোচনার কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন—যদিও বেইজিংয়ের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে পরামর্শ না করার বহু দশকের পুরোনো নীতি রয়েছে।

চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং তাইপের প্রতি ওয়াশিংটনের চলমান অনানুষ্ঠানিক সমর্থনের বিরোধিতা করে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’-এর অধীনে দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ওয়াশিংটন তাইপের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরপরই এই আইন পাস হয়েছিল।

তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান কূটনৈতিক অবস্থানকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন ট্রাম্প।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেন, অস্ত্র চুক্তি নিয়ে তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

এ ধরনের পদক্ষেপ তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এড়িয়ে চলার যুক্তরাষ্ট্রের চার দশকের কূটনৈতিক প্রথা ভঙ্গ করবে। আবার,  এমন সিদ্ধান্তের কারণে বেইজিংয় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তবে সেই আলাপ হয়েছিল তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা