প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ২২:৩১ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ১৩:৩৩ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে জার্মানিকে দ্রুত সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্রাসেলসভিত্তিক প্রভাবশালী থিংকট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান রিফর্ম। সংস্থাটির মতে, চীনের শিল্প ও রপ্তানি আধিপত্যকে অতিরিক্ত প্রশংসা করতে থাকলে জার্মানি এমন এক ‘ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’-এর মুখে পড়তে পারে, যার ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালের পর প্রত্যক্ষ করেছিল।
সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ হয়ে ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে দুই দেশের মোট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ বিলিয়ন ডলারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “চায়না শক ১.০”-এর সময় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের হঠাৎ প্রবাহের কারণে প্রায় ২৫ লাখ চাকরি হারিয়ে যায়। বিশেষ করে আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পনগরীগুলোতে আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক ভাঙনের মতো সামাজিক সংকট বেড়ে গিয়েছিল।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, একই ধরনের পরিস্থিতি জার্মানির শিল্পনগরী উলফসবুর্গ ও স্টুটগার্টেও দেখা দিতে পারে, যেখানে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের কারখানা। এতে বলা হয়, “জার্মানি এখনও সমস্যাটিকে প্রশংসার চোখে দেখছে, অথচ চীন ইতোমধ্যেই জার্মান শিল্পের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।”
থিংকট্যাঙ্কটির দাবি, চীন ‘১০,০০০ লিটল জায়ান্টস’ নামে একটি রাষ্ট্রীয় শিল্পনীতি বাস্তবায়ন করছে, যার লক্ষ্য জার্মানির শক্তিশালী ‘মিটেলস্ট্যান্ড’ বা মাঝারি আকারের উদ্ভাবনী
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া, ইউরোর তুলনায় ইউয়ানের সম্ভাব্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়ন এবং পরিকল্পিত শিল্পনীতি—এই তিন কারণে বৈশ্বিক বাজারে চীনা পণ্যের আধিপত্য দ্রুত বাড়ছে।
সংস্থাটি জার্মান সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “শুধু অপেক্ষা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ভাবা কোনো বিচক্ষণতা নয়; বরং এটি শিল্পখাত ধ্বংসের পথকে প্রশস্ত করবে।”
প্রতিবেদনে জার্মানিকে ফ্রান্সের সঙ্গে একযোগে আইএমএফ ও জি-৭ প্ল্যাটফর্মে চীনের মুদ্রানীতি ও একমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপ ও চীনের কয়েকজন শিল্পনেতাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ইউরোপীয় শিল্প ধীরে ধীরে চীনা প্রতিযোগিতার কাছে “বলিদান” হয়ে যাচ্ছে। একজন জার্মান শিল্পপ্রধান মন্তব্য করেছেন, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যে ইউরোপ একসময় চীনের প্রদেশে পরিণত হতে পারে।”