প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ১১:৩৩ এএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৬ ১১:৫২ এএম
চীনের বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে সালের ২০ মে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে বুধবার পুতিনকে স্বাগত জানান সি চিনপিং। রুশ গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দুই নেতাকে করমর্দন করতে দেখা যায়।
গ্রেট হলে প্রবেশের আগে লাল গালিচা বিছিয়ে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় দুই নেতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকেন এবং চীন ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পুতিন রাশিয়া-চীন সহযোগিতার ‘শক্তিশালী ও ইতিবাচক’ অগ্রগতির প্রশংসা করেন বলে জানিয়েছে রুশ গণমাধ্যম।
পুতিন বলেন, “বৈরী বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী এবং ইতিবাচক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে সি চিনপিং রাশিয়া-চীনের ‘অটুট সম্পর্কের’ প্রশংসা করেন।
সি বলেন, “বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও পরীক্ষার মধ্যেও আমরা রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও গভীর করতে সক্ষম হয়েছি। এই সম্পর্ক দৃঢ় ও অবিচল রয়েছে।”
এ সময় সি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, সংঘাত আরও বাড়ানো ‘উচিত নয়’ এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।
চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়- সি বলেন, “সমগ্র পরিস্থিতিতে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সবচেয়ে জরুরি। নতুন করে সংঘাত শুরু করা অনুচিত এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বেইজিং থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ জানান, পুতিনের এই সফর এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
তার ভাষ্য, পুতিন এবার চীন-রাশিয়া বন্ধুত্বের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সফর করছেন। তিনি বহুবার চীন সফর করেছেন এবং সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ৪০ বারেরও বেশি বৈঠক করেছেন।
ইউ বলেন, “এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে বিদ্যমান সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও গভীর করা।”
তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতা একে অপরকে সর্বশেষ তথ্য জানাবেন। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় কী হয়েছে, সেটিও পুতিনকে জানাতে পারেন সি চিনপিং।”
পুতিনের সঙ্গে বড় একটি রুশ ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধি দলও রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, সফরে অর্থনীতি, পর্যটন, শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪০টি চুক্তি সই হতে পারে।
তবে আল জাজিরার প্রতিবেদকের মতে, পুতিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে জ্বালানি নিরাপত্তা।
তিনি বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপমুখী রুশ গ্যাস বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে চীনের ওপর রাশিয়ার নির্ভরতা বেড়েছে।”
সির সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীন দুই দেশের “মৌলিক স্বার্থ” রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার বিষয়ও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন আরও বলেন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং মস্কো-বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিশ্ব পরিস্থিতিতে ‘স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে জোট করছি না; বরং শান্তি ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধির স্বার্থেই একসঙ্গে কাজ করছি।”
সূত্র: আল জাজিরা