দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করার সময় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ৭ মে তোলা অরোরা অস্ট্রালিস। ছবি: সোফি অ্যাডেনট
উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর আলো বা অরোরা সবসময়ই চোখজুড়ানো দৃশ্য। তবে পৃথিবী থেকে শত শত মাইল ওপরে মহাকাশ থেকে দেখলে এর সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থানরত নভোচারী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোফি অ্যাডেনট ভারত মহাসাগরের ওপর থেকে মনোমুগ্ধকর অরোরা অস্ট্রালিসের ছবি তুলেছেন।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে তোলা হয়, যখন আইএসএস পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৬৮ মাইল ওপরে কক্ষপথে ঘুরছিল।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ৯ মাসের মিশনে আইএসএসে যাত্রা করেন অ্যাডেনট। মহাকাশ স্টেশন থেকে নভোচারীরা প্রায়ই পৃথিবীর ছবি তুলে থাকেন।
মহাকাশ থেকে অরোরা যেমন দেখায়, পৃথিবী থেকে তেমন দেখা যায় না। সূর্য থেকে আসা কণাগুলো ঠিক কোথায় পৃথিবীর ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ঝলমলে আলোর সৃষ্টি করছে, মহাকাশ থেকে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
অরোরা অস্ট্রালিস, যা ‘দক্ষিণের আলো’ নামেও পরিচিত। এটি সাধারণত অ্যান্টার্কটিকার কাছাকাছি এলাকায় বেশি দেখা যায়। তবে সূর্যের তীব্র সক্রিয়তার সময় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকেও এই আলোর খেলা দেখা সম্ভব।
যেভাবে তৈরি হয় এই আলো
অরোরা সৃষ্টি হয় সূর্য থেকে নির্গত উচ্চশক্তির কণাগুলোর কারণে। সৌরবায়ুর মাধ্যমে বহন হওয়া এসব কণা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র বরাবর মেরু অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়। সেখানে গিয়ে তারা ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় শোষিত শক্তি নিঃসরণ করতে গিয়ে এসব পরমাণু বিভিন্ন রঙের আলো ছড়ায়।
মহাকাশ থেকে নভোচারীরা অরোরার গঠনকে ত্রিমাত্রিকভাবে দেখতে পারেন এবং সূর্যকণাগুলো ঠিক কোথায় আঘাত করছে তা বুঝতে পারেন। পৃথিবীর মানুষের জন্য অরোরা অস্ট্রালিস দেখা এক স্বপ্নময় অভিজ্ঞতা। আর মহাকাশ থেকে সেই দৃশ্য যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্যের বাস্তব রূপ।