গোমায় সিবিসিএ ভিরুঙ্গা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এক মোটরসাইকেল চালক গ্রাহকের জন্য অপেক্ষা করছেন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) ও প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি জনস্বাস্থ্য আইন প্রয়োগ করে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) সোমবার ডিআরসিতে কর্মরত এক মার্কিন নাগরিকের ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান মানবিক সংস্থা ‘সার্জ’ জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি পিটার স্ট্যাফোর্ড পেশায় চিকিৎসক। ইবোলার উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
পাশাপাশি তার স্ত্রী ডা. রেবেকা স্ট্যাফোর্ড এবং আরও একজন চিকিৎসক বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের শরীরে উপসর্গ দেখা যায়নি। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে স্ট্যাফোর্ড দম্পতির চার সন্তানকেও।
এর আগে গত ইবোলার জন্য রবিবার “জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। যদিও এটিকে এখনো মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে যে দ্রুত সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ডিআরসির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. স্যামুয়েল রজার কাম্বা জানিয়েছেন, বর্তমানে ৫১৩টি সন্দেহজনক সংক্রমণের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। আফ্রিকা সিডিসিও এটিকে “পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব কন্টিনেন্টাল সিকিউরিটি” ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর ব্যবস্থা
ইবোলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সিডিসি ‘টাইটেল ৪২’ আইন চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি মূলত সংক্রামক রোগের সময় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করতে ব্যবহৃত হয়। কোভিড-১৯ মহামারির পর এই প্রথম আবারও আইনটি কার্যকর করা হলো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে ডিআরসি, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান ভ্রমণ করেছেন এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
তবে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। আক্রান্ত দেশগুলোতে কার্যকর স্ক্রিনিং ও মানবাধিকার বিবেচনায় নিয়েও পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও সিডিসি জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের ঝুঁকি কম।