আল জাজিরা
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬ ১৬:৪৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেইজিং বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে অন্তত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউস রবিবার প্রকাশিত এক নথিতে জানায়, ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্রয় কার্যক্রম চলবে। তবে ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা বছরের অবশিষ্ট সময়ের আনুপাতিক হারে বাস্তবায়ন করা হবে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই প্রতিশ্রুতি গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শি বৈঠকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়েও বড়। সে সময় চীন প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কেনার কথা জানিয়েছিল।
নথিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের বাজার উন্মুক্ত করতে ৪০০টির বেশি উৎপাদন কেন্দ্রের মেয়াদোত্তীর্ণ তালিকা নবায়ন করবে চীন।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ যেসব অঙ্গরাজ্যকে বার্ড ফ্লু মুক্ত ঘোষণা করেছে, সেসব অঞ্চল থেকে আবারও পোলট্রি আমদানি শুরু করবে বেইজিং।
হোয়াইট হাউস আরও জানায়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা জোরদারে উভয় দেশ ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড এবং ইউএস-চায়না বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট নামে দুটি নতুন সংস্থা গঠনে সম্মত হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি চীন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে এই ঘোষণা আসে। তবে শুক্রবার শেষ হওয়া ওই বৈঠকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেলেও বড় কোনো চুক্তি হয়নি।
বেইজিংয়ের আলোচনায় দুই নেতা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে তাইওয়ান ও ইরানকে ঘিরে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো অনেকটাই এড়িয়ে যান তারা।
বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানায়, দুই পক্ষ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউস আরও দাবি করে, উভয় দেশ একমত হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
তবে বেইজিং সরাসরি এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। চীন বরং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করলেও হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে দ্বীপটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি।
বিষয়টি এমন সময়ে ঘটেছে যখন কয়েকদিন আগে চীনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় যখন শি জিনিপিং ট্রাম্পকে সতর্ক বলেছিলেন, যদি তাইওয়ান ইস্যু ‘সঠিকভাবে সামলানো না হয়’ তাহলে দুই দেশের মধ্যে ‘সংঘর্ষ এমনকি সংঘাতও’ ঘটতে পারে।
অন্যদিকে ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি প্রধান ডেবোরাহ এলমস বলেন, চীনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া ওয়াশিংটনের এমন ঘোষণাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ে এক পক্ষের ঘোষণা অন্য পক্ষ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমি সন্দিহান থাকব। অনেক সম্পর্কেই এমনটা দেখা যায়, তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিশেষ করে চীনের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রকট।”
ডেবোরাহ এলমসের মতে, বছরে অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য ক্রয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কিছুটা গতি আনতে পারে। তবে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির তুলনায় এর সামগ্রিক প্রভাব সীমিতই থাকবে।
গত প্রায় এক দশক ধরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অর্থনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
গত বছর দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১৫ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২২ সালেও এই পরিমাণ ছিল ৬৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।