প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ ১১:৩০ এএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ০১:১৫ এএম
আর্থিক অবস্থার উন্নতির দাবি করলেও পাকিস্তান রেলওয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কর্মচারীদের প্রায় ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বকেয়া এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দেশটির রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ দায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে জাতীয় পরিষদে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিয়েছে।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, মার্চ ২০২৩-এর পর অবসরে যাওয়া কর্মচারীরা এখনো তাদের অবসরোত্তর সুবিধা পাননি। এর মধ্যে গ্র্যাচুইটির বাবদ প্রায় ১০ বিলিয়ন রুপি বকেয়া রয়েছে, যা ৫ হাজার ৫৭৮ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পাওনা।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ৪ হাজার ১৩৫টি পরিবারের জন্য ৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন রুপি এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি পেলেও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় রেলওয়ে কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
নথিতে আরও দেখা যায়, বিভিন্ন কল্যাণমূলক খাতেও বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। বিয়ে অনুদান বাবদ প্রায় ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন রুপি এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ডের আওতায় আরও ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন রুপি এখনো আটকে আছে।
রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থ সহায়তার জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। ৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন রুপির অতিরিক্ত অনুদান চেয়ে পাঠানো একটি সারসংক্ষেপ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ মাসে বিষয়টি অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটির এজেন্ডাতেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এদিকে পাকিস্তান রেলওয়ের আর্থিক পুনরুদ্ধারের সরকারি দাবিও নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে। সংস্থাটি গত অর্থবছরে ৯৩ বিলিয়ন রুপি আয় করলেও একই সময়ে সরকার থেকে ৬৪ বিলিয়ন রুপি অনুদান নিতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।