প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬ ১৭:৩০ পিএম
৭৮ বছর আগের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে যুক্ত হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া খ্যাত রাষ্ট্র- ইসরায়েল। ছবি: শাটারস্টক
৭৮ বছর আগের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে যুক্ত হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া খ্যাত রাষ্ট্র- ইসরায়েল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইনের অবসানের প্রেক্ষাপটে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে রাষ্ট্রটি।
ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়নের ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের এক এক কালো অধ্যায়, যার প্রভাব আজও বিশ্ব রাজনীতিতে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে ইহুদিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুরু হয় জায়নবাদী আন্দোলন। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও নাৎসি জার্মানির গণহত্যার পর ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়তে থাকে। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি- দুই রাষ্ট্রে ভাগ করার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যদিও আরব দেশগুলো সেই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে স্বীকৃতি দেয়। পরে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। তবে স্বাধীনতার ঘোষণার পরপরই মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননসহ কয়েকটি আরব দেশ সামরিক অভিযান শুরু করলে প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী আরব-ইসরায়েল সংঘাত। ফিলিস্তিনিদের কাছে ১৯৪৮ সালের ঘটনাকে ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় হিসেবে স্মরণ করা হয়। কারণ যুদ্ধের সময় লাখো ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন অথবা বাস্তুচ্যুত হন। ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংকট এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
রাষ্ট্রটির ৭৮ বছরের যাত্রাপথের পুরোটাই ছিল সংঘাত, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভরা। ফিলিস্তিন সংকট, গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীর ইস্যু এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা এখনও অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৪ মে ১৯৪৮ সালের এই দিনটি শুধু একটি রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংঘাত, কূটনৈতিক সমীকরণ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের দিন।