ট্রাম্পকে শি জিনপিং
চীনের রাষ্ট্রীয় ভবন গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৃহস্পতিবার বৈঠকের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ নয়, বরং ‘অংশীদারত্বের’ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় ভবন গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, “সহযোগিতা থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই লাভবান হতে পারে, আর সংঘাত হলে উভয়েরই ক্ষতি হবে। আমাদের একে অপরকে সফল হতে সহায়তা করতে হবে, একসঙ্গে সমৃদ্ধ হতে হবে এবং নতুন যুগে বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে।”
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে তিনি পরিবর্তনশীল ও অস্থির বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিশ্ব এখন ‘এক নতুন সন্ধিক্ষণে’ এসে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যা ইতিহাস, বিশ্ব ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে- দুই দেশ নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে কি না, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কি না এবং বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারবে কি না। শি বলেন, “এগুলো আমাদের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যার উত্তর আপনাকে ও আমাকে দিতে হবে।”
বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘পার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থই বেশি’ উল্লেখ করে শি বলেন, “এক দেশের সফলতা অন্য দেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করে।” তিনি বলেন, স্থিতিশীল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গোটা বিশ্বের জন্যই উপকারী।
তার লক্ষ্য, ২০২৬ সালকে এমন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গড়ে তোলা, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
দুই নেতার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, তাইওয়ান ইস্যু, বাণিজ্য ও শুল্কনীতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ইলন মাস্ক, টিম কুকসহ আরও অনেকে। ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী লারা ট্রাম্পও এই সফরে অংশ নেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়, তার প্রেক্ষাপটে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। ওই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
চীন বারবার মধ্যপ্রাচ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, বেইজিং ইরানকে ‘সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা’ করছে।
সূত্র: আনাদলু