প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ ১৭:৩৪ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৬ ২০:৪০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধবিরতি বর্তমানে ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের ওভাল কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে ওভাল কার্যালয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলবো যুদ্ধবিরতি এখন ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ বা জীবনমৃত্যুর চরম সন্ধিক্ষণে রয়েছে”।
“এটা ঠিক সেই অবস্থা যখন ডাক্তার এসে বলেন, স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ”, বলেন ট্রাম্প।
বক্তব্য প্রদানকালে ইরানি নেতাদের “অত্যন্ত অসম্মানজনক ব্যক্তি” বলে অভিহিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
বিবিসির এক প্রতিবেন অনুযায়ী ট্রাম্প বলেন, “দেখুন, আমাকে তাদের (ইরানের) সঙ্গে চার-পাঁচবার কাজ করতে হয়েছে। তারা বার বার তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে”।
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আমাদের যে আবর্জনাটা পাঠিয়েছিল, সেটা আমি পড়ে শেষও করিনি”।
অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, ইরান যতটুকু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না”।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, সমৃদ্ধ ইউরোনিয়াম অপসারণের জন্য যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, সেটি মেনে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবে নেই।
এর আগে, এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প আবারও বলেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ “দ্রুত শেষ হয়ে যাবে”।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিয়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে।
“এখনো কিছু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানে রয়েছে। সেগুলো ভেঙে ফেলতে হবে,” সিবিএসের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি নেতানিয়াহু এ কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ইতি টানার জন্য ১৪-দফা সম্বলিত এক পৃষ্ঠার একটি প্রাথমিক স্মারকলিপি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেখানে ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল চালু করার বিপরীতে ইরানের ওপর থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুইজন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুটি সূত্রকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, যারা স্মারকলিপিটি সম্পর্কে জানেন বলে খবরে বর্ণনা করা হয়েছে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। ওই ঘটনার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথটি দিয়ে সরবরাহ হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, তেহরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের নৌবন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।
প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে গত এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা হলেও সেটি এখনও ফলপ্রসু হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষ নিজেদের মতো করে আলাদা শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু কোনোপক্ষই চুক্তির বিষয়ে এখনও ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।