প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ১৮:১৭ পিএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৬ ২০:২৫ পিএম
জাহাজ থেকে সরিয়ে আনার পর টেনারিফে বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের হ্যাজম্যাট স্যুট পড়িয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফে হান্টাভাইরাসে ভাইরাসে আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ ‘এমএস হোন্ডিয়াস’ থেকে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে রবিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাহাজ এমএস হোন্ডিয়াসে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে এটি সমুদ্র উপকূলে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় ছিল। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাহাজে ইতোমধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
জাহাজটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর হয় ১১ এপ্রিল, এটি তখন গভীর সমুদ্রে ছিল। টেনেরিফে পৌঁছানোর আগে গত কয়েক দিন ধরে কেপ ভার্দে উপকূলে নোঙর করার অনুমতি না পেয়ে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল জাহাজটি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্প্যানিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, যাত্রীদের উদ্ধার করতে ছোট ছোট দলে ভাগ করে উপকূলীয় বন্দরে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখান থেকে সরাসরি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যেন যাত্রীদের কোনো সংস্পর্শ না ঘটে, সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
ক্রুজে ডাচ, জার্মান, ব্রিটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকরা ছিলেন। সুস্থ যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হলেও যাদের শরীরে সামান্যতম উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তাদের স্থানীয় হাসপাতালে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
স্প্যানিশ যাত্রীদের বেশ কড়া নজরে রেখেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। জাহাজে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে নামানোর পর সরাসরি মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেখানে তাদের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজে বর্তমানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হলেও ঝুঁকি এড়াতেই এই দ্রুত ইভাকুয়েশন বা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি পর্যটন এলাকায় সাময়িক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার পর জাহাজটিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
এদিকে ডাচ সরকারের পাঠানো বিমানে নেদারল্যান্ডসের যাত্রীদের পাশাপাশি জার্মানি, বেলজিয়াম এবং গ্রিসের নাগরিকদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ে থেকে আলাদা বিশেষ ফ্লাইট এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে দেশটি। একইভাবে ব্রিটিশ নাগরিকদেরও বিশেষ বিমানে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
অন্যান্য দেশের মধ্যে কানাডা, তুরস্ক এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্যও পৃথক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটি ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।