প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ১২:০৪ পিএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৬ ১২:০৮ পিএম
চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে রবিবার তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সভাপতি থালাপতি বিজয়। ছবি: এনডিটিভি
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সভাপতি থালাপতি বিজয়।
৫১ বছর বয়সী বিজয় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে রবিবার আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে শপথ নেন।
এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-এর বাইরে অন্য কোনো দলের সরকার গঠিত হলো।
বিজয়ের সঙ্গে টিভিকের আরও ৯ জন নেতা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ নেতা কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ান, যিনি এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিজয়ের দলে যোগ দেন। এছাড়া শপথ নেওয়া অন্য নেতারা হলেন- আধাভ অর্জুনা, নির্মল কুমার, ‘বুসি’ আনন্দ, রাজমোহন, কে টি প্রভু, অরুনরাজ, পি ভেঙ্কটারামান এবং এস কীর্তনা।
মাত্র দুই বছর আগে গঠিত টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়ে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা অর্জন করতে পারেনি।
এরপর বিজয় সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেন এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন দেখাতে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে চারবার বৈঠক করেন।
যেভাবে সরকার গঠন করলেন বিজয়
ডিএমকের মিত্র কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন পেয়ে বিজয় বুধবার গভর্নরের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে তাকে জানানো হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন তার নেই।
পরে অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার আবারও গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যা দেখাতে ব্যর্থ হন তিনি।
শুক্রবার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর সমর্থন পান বিজয়। দল দুটির দুটি করে আসন রয়েছে।
তবে বিজয় দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হয়। ফলে জোটের মোট আসন দাঁড়ায় ১১৬, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে দুই কম।
শুক্রবার টানা তৃতীয় দিনের মতো গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেও অন্তত ১১৮ বিধায়কের লিখিত সমর্থন দেখাতে পারেননি তিনি।
শনিবার পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন ডিএমকের মিত্র বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) টিভিকেকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। এতে জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১২০।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিজয় দ্রুত গভর্নরের সরকারি বাসভবন লোক ভবনে গিয়ে নিঃশর্ত সমর্থনের চিঠি জমা দেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর গভর্নর সন্তুষ্ট হন এবং বিজয়কে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে আগামী ১৩ মের মধ্যে তাকে আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে।
চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতিতে বিজয়ের যাত্রা
১৯৭৪ সালের ২২ জুন চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন বিজয়। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর পরিচালিত বিজয়কান্ত অভিনীত ‘ভেট্রি’ সিনেমার মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় অভিষেক হয় তার।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থির্পু’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরের বছর ‘সেন্ধুরাপান্ডি’ সিনেমায় বিজয়কান্তের ছোট ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার তৃতীয় সিনেমা ‘রাসিগান’-এর প্রচারে পরিবার তাকে “ইলাইয়া থালাপতি” (তরুণ সেনাপতি) উপাধি দেয়। সেখান থেকেই ‘থালাপতি’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ‘থুপ্পাক্কি’ (২০১২), ‘কাথ্থি’ (২০১৪), ‘মার্সাল’ (২০১৭), ‘বিগিল’ (২০১৯) এবং ‘লিও’ (২০২৩)-এর মতো একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
২০২৪ সালে টিভিকে দল গঠনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গন ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে যোগ দেন বিজয়।
সূত্র: এনডিটিভি