প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৬ ০০:৪৮ এএম
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি। ছবি: কাটমুন্ডু পোস্ট
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির কাঠমান্ডু সফর স্থগিত করা হয়েছে। দুই দিনের সফরে সোমবার তার কাঠমান্ডুতে যাওয়ার কথা ছিল।
নেপাল সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে কাটমুন্ডু পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে।
নয়াদিল্লি নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের অগ্রাধিকারগুলো বোঝার জন্য
পররাষ্ট্র সচিবকে কাঠমান্ডুতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হয়েছিল।
তবে এই সফর স্থগিত এবং নেপাল-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর দুই পক্ষের মধ্যে যে প্রাথমিক উৎসাহ ছিল, তা কিছুটা কমে গেছে।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে পরিকল্পিত বেশিরভাগ বৈঠক ও সফর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার মতে, মিসরির অন্যান্য প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় পক্ষ নেপালকে জানিয়েছে যে, সফরটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভারতের সফর স্থগিতের কারণ জানায়নি।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, স্থগিতের দুটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী শাহ ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছেন, ভারতের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও অথবা লিম্পিয়াধুরায় সীমানা নিয়ে নেপাল ও ভারতের সাম্প্রতিক বিরোধ, যা নেপাল ঐতিহাসিকভাবে তার অঞ্চল বলে দাবি করে।
নেপাল সরকার ভারত ও চীনের বিতর্কিত এলাকা থেকে তিব্বতে মানসরোবর তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্তে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে।
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে, ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছিল যে, মরিশাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং তার ভারতীয় প্রতিপক্ষ এস জয়শঙ্করের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী মিসরি কাঠমান্ডু সফর করবেন। ভারত নেপালের কাছে প্রস্তাবিত সোম ও মঙ্গলবার সময়সূচীর নিশ্চিতকরণ চেয়েছিল।
সে অনুযায়ী, পররাষ্ট্র সচিব অমৃত বাহাদুর রায় মিসরিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিল। মিসরির প্রধানমন্ত্রী শাহকে ভারত সফরের জন্য একটি আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করার কথা ছিল।
যদিও উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেয়নি, কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি উভয় স্থানেই প্রস্তুতি পুরোদমে চলছিল।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, নেপালের রাষ্ট্রদূত শঙ্কর শর্মার বিদায়ী সাক্ষাৎকারেও মিসরি জানিয়েছিলেন যে তার নেপাল সফর পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে এবং তিনি নতুন উদ্যম নিয়ে কাঠমান্ডু ভ্রমণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর চেয়ে কম পদমর্যাদার কোনো বিদেশী কর্মকর্তা বা নেতার সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত রয়েছেন। আমেরিকানদের অনুরোধ উপেক্ষা করে, তিনি এর আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত সের্গিও গোর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন।
তিনি মিসরির সফরের সময়ও একই নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শাহ অর্থ সচিব স্বর্ণিম ওয়াগলে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানালের ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ শোনেননি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই ঘটনাগুলি নেপাল-ভারত সম্পর্কের জন্য নীতি বাচক প্রভাব ফেলবে।