প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ২৩:৩১ পিএম
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির পূর্বনির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) তার দুই দিনের সফরে নেপালে যাওয়ার কথা ছিল।
আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পক্ষ থেকে ‘অন্যান্য ব্যস্ততা’র কথা বলা হলেও, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এই সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং লিপুলেখ সীমান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক বিরোধই এই সফর স্থগিতের মূল কারণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (৯ মে) এ খবর দেয় কাঠমান্ডু পোস্ট।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নয়াদিল্লির বারবার অনুরোধ এড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিচের পদমর্যাদার কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার নীতি গ্রহণ করেছেন। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি একই কারণে সাক্ষাৎ করেননি। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে সফর স্থগিতের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে ‘মানস সরোবর’ যাত্রা নিয়ে বিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। চীন ও ভারত বিরোধপূর্ণ লিপুলেখ সীমান্ত দিয়ে তিব্বতে মানস সরোবর তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে নেপালের বলেন্দ্র প্রশাসন এর তীব্র আপত্তি জানায়। এ বিষয়ে দুই প্রতিবেশী দেশকে আলাদা কূটনৈতিক বার্তাও পাঠিয়েছে নেপাল সরকার। কাঠমান্ডুর স্পষ্ট অবস্থান হলো, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালের সঙ্গে সব অমীমাংসিত সীমান্ত বিষয়ে ভারত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে লিপুলেখসহ অন্যান্য এলাকায় নেপালের একতরফা দাবি ভারত মেনে নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর ভারত ও নেপালের মধ্যে যে প্রাথমিক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনাগুলোর জেরে তা এখন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তবে এত উত্তেজনার পরও আগামী ১ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের ভারত নির্ধারিত সফর এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে।