প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ১৮:৪৭ পিএম
শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শনিবার মাখন লাল সরকারের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: এনডিটিভি
কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ ব্যক্তির পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিতে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। শুধু তাই নয়, তিনি তাকে আলিঙ্গনও করেন।
ওই প্রবীণ ব্যক্তির নাম মাখন লাল সরকার। তিনি শিলিগুড়ির বাসিন্দা এবং বিজেপির শুরুর দিকের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সংগঠক।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য জানান, মাখন লাল সরকার ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ঘনিষ্ঠ সহচর। তিনি বলেন, “কাশ্মীরের এক কারাগারে রহস্যজনকভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মৃত্যু হয়েছিল। তার শেষ যাত্রার সঙ্গী ছিলেন মাখন লাল সরকার। আজ তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে সম্মানিত করেছেন।”
সামিক ভট্টাচার্য আরও জানান, কংগ্রেস আমলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ একসময় মাখন লাল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তাকে আদালতে হাজির করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, “মাখন লাল সরকার বিচারককে বলেছিলেন, তিনি কোনও অপরাধ করেননি, শুধু একটি গান গেয়েছেন। তখন বিচারক গানটি শুনতে চাইলে তিনি আদালতেই আবার সেই গান গেয়ে শোনান। পরে বিচারক পুলিশকে তাকে প্রথম শ্রেণির টিকিটে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং যাত্রার জন্য ১০০ রুপিও দিতে বলেন।”
বিজেপির প্রবীণ সংগঠক মাখন লাল সরকার
মাখন লাল সরকার ছিলেন বিজেপির শিলিগুড়ি জেলার প্রথম সভাপতি। এছাড়া শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ঐতিহাসিক কাশ্মীর সফরেও তিনি সঙ্গী ছিলেন। ৯৭ বছর বয়সেও তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাথমিক তৃণমূল সংগঠকদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
১৯৫২ সালে কাশ্মীরে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলন আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সঙ্গে থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর তিনি পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৮১ সাল থেকে টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মাখন লাল সরকার। সে সময় সাধারণত বিজেপি নেতারা একই সাংগঠনিক পদে দুই বছরের বেশি থাকতে পারতেন না। তাই তার এই দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকে ব্যতিক্রমী অর্জন হিসেবে দেখা হয়।