ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকুর উত্তর হালমাহেরা রিজেন্সিতে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনোর অগ্ন্যুৎপাতের পর ছাই উঠতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি প্রশমন কেন্দ্র জানিয়েছে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এতে প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত ছাইয়ের কুণ্ডালি আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
আগ্নেয়গিরির ক্রেটারের কাছে শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় আটকা পড়া একাধিক পর্বতারোহীকে উদ্ধারে অভিযান চালায় দেশটির উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন বলছে, নিহতদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের দুই নাগরিক এবং একজন ইন্দোনেশীয় রয়েছেন। তবে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসরনাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
উত্তর হালমাহেরা পুলিশের প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানান, অগ্ন্যুৎপাতের সময় ৯ জন বিদেশি ও ১১ জন স্থানীয় পর্বতারোহী মাউন্ট ডুকোনোতে আরোহণ করছিলেন। পরে জীবিত সবাই নিরাপদে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চলমান আগ্নেয়গিরির তৎপরতার কারণে নিহত তিনজনের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
অগ্ন্যুৎপাতের সময় পাহাড়ে থাকা ইন্দোনেশীয় পর্বতগাইড অ্যালেক্স জাঙ্গু জানান, বিস্ফোরণের আগে তিনি প্রবল কম্পন অনুভব করেছিলেন।
তিনি বলেন, “ভূমিকম্পের মতো কাঁপুনি শুরু হলে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে নিচে পড়তে থাকে। তখনই আমি আমার পর্যটকদের বলি দ্রুত নিচে নেমে যেতে”।
ঘটনার সময় তিনি দুই জার্মান পর্যটককে নিয়ে পাহাড়ে উঠছিলেন অ্যালেক্স। তারা নিরাপদে নেমে আসতে পারলেও অনেক পর্বতারোহী তখনও ক্রেটারের কাছে অবস্থান করছিলেন বলে জানান তিনি।
জাঙ্গুর ধারণ করা ভিডিওতে বিশাল ধোঁয়া ও ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশে উঠতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি আশা করি তারা এখনো জীবিত আছে”।
তিনি আরও জানান, আগ্নেয়গিরিটি অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত “বিকট বিস্ফোরণ” হচ্ছিল।
উদ্ধার অভিযানের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ি বন পেরিয়ে আহত এক ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাউন্ট ডুকোনো ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। গত মার্চের শেষ দিক থেকেই সেখানে অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
আলেক্স জাঙ্গু বলেন, “মাউন্ট ডুকোনো কয়েকদিন শান্ত থাকলে মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হয়। কারণ তখন ভেতরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হতে পারে। আজ ঠিক সেটাই হয়েছে”।
মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। এই অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরিপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি। জাপান ও ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।