× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা চরমে, গুলিতে নিহত শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী

টাইমস অব ইন্ডিয়া

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ০৯:৫৮ এএম

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ১০:৩২ এএম

উত্তর ২৪ পরগনার দোলতলা এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলিতে নিহত হন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রাঠ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

উত্তর ২৪ পরগনার দোলতলা এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলিতে নিহত হন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রাঠ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাঠ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রাঠ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দোহারিয়া মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তরা তার গাড়ির গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রথমে একটি চারচাকা গাড়ি দিয়ে রাঠের গাড়ির পথ আটকে দেওয়া হয়। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা এক হামলাকারী গাড়ির কাছে এসে গুলি চালাতে শুরু করে।

হামলার পর চারচাকা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলেই গাড়িটি ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় বলেও জানান তারা।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত চন্দ্রনাথ রাঠকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় দলই বিভিন্ন জেলায় একে অপরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং পাল্টা সহিংসতার অভিযোগ করে আসছে।

মোটরসাইকেলে এসে হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রথমে একটি চারচাকা গাড়ি দিয়ে রাঠের গাড়ির পথ আটকে দেওয়া হয়। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা এক হামলাকারী গাড়ির কাছে এসে গুলি চালাতে শুরু করে।

হামলার পর চারচাকা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলেই গাড়িটি ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় বলেও জানান তারা।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত চন্দ্রনাথ রাঠকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একজন চিকিৎসক জানান, “দুইটি গুলি তার বুকে লাগে, যা হৃদপিণ্ড ভেদ করে যায়। আরেকটি গুলি পেটে আঘাত করে। তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগই ছিল না।”

ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি সমর্থকরা

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত বিজেপি সমর্থক হাসপাতালের বাইরে জড়ো হন। তারা ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রাতভর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে ছুটে আসেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা, সদ্য নির্বাচিত বিধায়কেরা এবং দলীয় কর্মীরা।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল ও যশোর রোড এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সমর্থকদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্যদিকে বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে ‘সন্ত্রাসের পরিবেশ’ তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন দল।

রাত প্রায় ১২টার দিকে শুভেন্দু অধিকারীও হাসপাতালে পৌঁছান।

রাজনৈতিক বার্তা দিতেই এই হামলা, অভিযোগ বিজেপির

রাজ্য বিজেপি সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য দাবি করেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। তার ভাষায়, হামলাকারীরা এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, “এটি অপ্রত্যাশিত নয়। তৃণমূলের সহিংসতার সংস্কৃতি আর কত নিচে নামতে পারে, তা আমরা জানি না। এটি প্রমাণ করে যে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি পুরোপুরি অপরাধীকরণের পথে গেছে।

“এটি ছিল পরিকল্পিত ও লক্ষ্য করে চালানো হামলা। বিরোধী দলের বিদায়ী নেতার ব্যক্তিগত সহকারীকে হত্যা করে হামলাকারীরা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অবিরাম সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজেপি নেতা ও নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌশ্তভ বাগচি বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত না করা পর্যন্ত রাঠের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে না।

তিনি বলেন, “এটি ছিল টার্গেট করে চালানো হামলা। হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে রাঠের গাড়িকে অনুসরণ করার পর গুলি চালায়।

“এর পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত না করা পর্যন্ত আমরা থামব না। ততক্ষণ পর্যন্ত মরদেহের সৎকারও করা হবে না।”

নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি বলেন, “আমরা শান্তির কথা বলে আসছি, কিন্তু তৃণমূল সবচেয়ে বড় ভুল করেছে।”

সিবিআই তদন্তের দাবি তৃণমূলের

চন্দ্রনাথ রাঠ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রাঠের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

“পাশাপাশি গত তিন দিনে আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতে তৃণমূলের আরও তিন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও গভীর উদ্বেগজনক।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই ঘটনায় কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়।”

বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা, তদন্তে পুলিশ

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ছোট গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর শিলিগুড়ি আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের বলে মনে হলেও, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নম্বরপ্লেটটি বিকৃত করা হয়ে থাকতে পারে।

বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পা জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা এবং হামলার উদ্দেশ্য নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই রাঠকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, অথবা এটি বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল কি না।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, ফরেনসিক দল গাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়েছে।

কে ছিলেন চন্দ্রনাথ রাঠ?

পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ রাঠ ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক সদস্য। পরে তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনি প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন।

২০১৯ সালের দিকে, যখন শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই রাঠ আনুষ্ঠানিকভাবে তার দলে যুক্ত হন।

প্রথমদিকে তিনি অধিকারীর মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলাতেন। পরে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও একই ধরনের ভূমিকা পালন করতে থাকেন।

বছরের পর বছর ধরে রাঠ শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেপথ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

তিনি সাংগঠনিক কাজের সমন্বয়, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব পালন করতেন।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, রাঠ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি এবং নির্বাচনি কৌশল ও রাজনৈতিক সমন্বয়সংক্রান্ত স্পর্শকাতর দায়িত্বেও তাকে নিয়মিত যুক্ত রাখা হতো।

ভবানীপুরের উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক লড়াইসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রচারের মূল টিমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

দলীয় একটি অংশে এমন জল্পনাও ছিল যে, বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকারে আরও বড় ভূমিকা পেলে রাঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা