× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কে হচ্ছেন ‘নবান্ন’র নতুন অধিপতি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৫৮ এএম

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৫৯ এএম

শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে তৃণমূলকে বিপুল ব্যবধানে হারানোর পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় পাঠাচ্ছে, সেটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানকার রাজনীতিতে যেন এক প্রবল কালবৈশাখী আছড়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শাসনের অহংকার নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতার রত্নবেদিতে ফুটেছে পদ্মফুল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায় অস্তগামী সূর্যের মতোই অবধারিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই অস্তরাগের রঙেও মিশে আছে তীব্র জেদ আর ক্ষোভের লাল বিভা। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হতে চলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেনÑ তিনি ইস্তফা দেবেন না! কারণ? তার দাবি, বিজেপি ভোট লুট করেছে। নজিরবিহীন নাটকীয়তার বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বরাতে স্থানীয় বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবারই বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে; ফলে বৃহস্পতিবার থেকেই মমতা ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’ হয়ে যাবেন। দেখার বিষয়, তিনি সাংবিধানিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখেন কি না।

এদিকে সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। আনন্দবাজারের পৃথক দুটো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ বুধবার কলকাতায় যাচ্ছেন। তিনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবেন কে হচ্ছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কোনো ব্যতিক্রম না থাকলে অনুমান করা হচ্ছে, মমতাকে তার দুর্গ ভবানীপুরেই হারিয়ে দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীই নবান্নর নতুন অধিপতি হতে যাচ্ছেন। তাকে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই এ বিষয়ে তৎপর দেখা গেছে, তিনি এরই মধ্যে বলেছেন, বিজেপি সরকার ‘বিকশিত ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ’ উপহার দেবে। তবে অনেকে আগে থেকেই বিজেপির শাসনামলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা করে আসছেন।

মমতার ইস্তফা-নাটক ও সাংবিধানিক জটিলতা

এবার দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ২৯৪ আসনের মধ্যে একটি আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। সোমবার ফল প্রকাশ হয়েছে ২৯৩ আসনের। সরকার গঠনে দরকার ছিল মাত্র ১৪৭ আসন। গতকাল নির্বাচন কমিশনের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকার পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। গেরুয়াশিবিরের নীরব সুনামির বিপরীতে ২০২১ সালে ২১৫টি আসন পাওয়া তৃণমূল এবার মাত্র ৮০ আসনে নেমে এসে এক অভাবনীয় পতনের সাক্ষী হলো।

সোমবার দুপুরে যখন ভোটের ফল দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তখন বাংলার রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিলÑ কখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের হাতে আনুষ্ঠানিক ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন? কারণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এটাই চিরাচরিত রীতি। রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে মমতার কনভয় যখন বের হয়, অনেকেই ভেবেছিলেন গন্তব্য হয়তো সেদিকেই। কিন্তু তার গাড়িবহর সোজা চলে যায় কালীঘাটে, তার নিজ বাসভবনে। গতকাল বিকালে সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে মমতা এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। মমতার কথায়, ‘কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’

নতুন নজির

মমতার এই অনড় অবস্থানের ফলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি হতে চলেছে। সংবিধানে এমন পরিস্থিতির কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। কারণ আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাস্ত হওয়ার পরও যে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেবেন না, সংবিধান প্রণেতারা হয়তো এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে বলে কল্পনাও করেননি। তবে রাজ্যের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্তফা না দিলেও ৭ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ইস্তফা না দিলেও আগামীকাল পেরোলেই মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের আর কোনো আইনি বৈধতা থাকবে না। নামের আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জুড়ে যাবে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি।

কলকাতায় যাচ্ছেন অমিত শাহ

একদিকে যখন নবান্ন ছাড়তে নারাজ মমতা, অন্যদিকে তখন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে গেরুয়াশিবিরে চলছে তুমুল হিসাব-নিকাশ। বিধানসভার অন্দরে এবার বিজেপির ভূমিকা আমূল বদলাতে চলেছে। বিরোধী দলের আসন ছেড়ে তারা বসবে চালকের আসনে। আর যিনি পরিষদীয় দলের নেতা হবেন, তিনিই বসবেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। নেতা নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের ‘সেকেন্ড ইন-কমান্ড’ অমিত শাহ। আজ কলকাতা সফরে তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। বাংলার এই অভাবনীয় জয়কে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব যে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, এটি তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। আজ রাতে কলকাতায় পা রেখেই নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন শাহ। সেখানেই চূড়ান্ত হবে বাংলার পরবর্তী ভাগ্যনিয়ন্তার নাম।

সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে কারা 

বিজেপি এই নির্বাচনে মমতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মুখ্যমন্ত্রীর মুখ সামনে রেখে লড়েনি। তবে প্রচারের সময় প্রতিটি মঞ্চ থেকে অমিত শাহ বারবার একটি কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার ভূমিপুত্রই হবেন মুখ্যমন্ত্রী।’ আদ্যোপান্ত বাঙালি, এ রাজ্যে জন্ম এবং বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা কাউকেই যে এই পদে বসানো হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

এই দৌড়ে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম শুভেন্দু অধিকারী। পরপর দুটি বিধানসভা নির্বাচনে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক উচ্চতা প্রমাণ করেছেন। ফলপ্রকাশের পরের সকালেই সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় শুভেন্দু নতুন সরকারের লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিজেপির অঙ্গীকার এক উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’

শুভেন্দুর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শহুরে মধ্যবিত্ত ও সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালির মন ছুঁতে তার পরিশীলিত ভাবমূর্তি দলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। আবার উত্তরবঙ্গের প্রতি বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিনিয়োগের কথা মাথায় রেখে ওই অঞ্চল থেকে কোনো তৃতীয় মুখকে সামনে আনা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা রয়েছে।

অপেক্ষার প্রহর

শপথগ্রহণের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যদি ৮ মে শপথ হয়, তবে কোনো শূন্যস্থান তৈরি হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে এবং রাজ্য বিজেপির নেতাদের আলোচনায় শনিবারের কথা শোনা যাচ্ছে। পঁচিশে বৈশাখ। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনটিতেই হয়তো বাংলার বুকে রচিত হবে নতুন এক ইতিহাস। কিন্তু ৯ মে শপথ হলে ৭ তারিখের পর মধ্যবর্তী সময়ে রাজ্যপালকে হয়তো পুরো বিষয়টি সাময়িক তত্ত্বাবধান করতে হতে পারে, যা হবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে। রাষ্ট্রপতি নিজেও তদারকির দায়িত্ব নিতে পারেন, তবে এই অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা