প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৯:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ১৬:২৬ পিএম
জিমি লাইকে চলতি বছরের “ফ্রিডম অব স্পিচ অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করেছে জার্মান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে দীর্ঘদিনের অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
ডিডব্লিউ ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের এই পুরস্কার দিয়ে আসছে, যাতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা যায়।
বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই হংকংয়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট স্ট্যানলি কারাগারে প্রায় দুই হাজার দিন ধরে একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বেইজিং আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় “বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের” অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, জিমি লাইয়ের বিচার ও দণ্ড হংকংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার একটি প্রতীকী ঘটনা। ২০১৯ সালে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলবিরোধী আন্দোলন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভে রূপ নিলে বেইজিং “শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার” কথা বলে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে।
ডিডব্লিউ’র মহাপরিচালক বলেন, “জিমি লাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে অবিচল ছিলেন।”
জিমি লাইয়ের ছেলে সেবাস্তিয়ান লাই বলেন, “স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেন, তারা কখনও একা নন। হংকংয়ে যখন অনেক গণমাধ্যম আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমে বাধ্য হচ্ছে, তখন এই স্বীকৃতি অত্যন্ত অর্থবহ।”
দারিদ্র্য থেকে মিডিয়া সাম্রাজ্য
চীনের গুয়াংজু শহরের এক ধনী পরিবারে জন্ম নেওয়া জিমি লাইয়ের শৈশব কেটেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে। চীনের গৃহযুদ্ধের সময় তার পরিবার ভেঙে পড়ে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি একটি মাছ ধরার নৌকায় করে গোপনে হংকংয়ে চলে আসেন।
১৯৬০-এর দশকের হংকংয়ে শূন্য থেকে শুরু করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জিওর্দানো। পরে তিনি গণমাধ্যম জগতে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠা করেন প্রভাবশালী পত্রিকা অ্যাপল ডেইলি, যা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিল।
১৯৮৯ সালের তিয়েনানমেন স্কোয়ার গণহত্যা ছিল তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। এরপর থেকেই তিনি গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জিমি লাইয়ের জীবনকাহিনি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; এটি হংকংয়ের স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।