নিজ ঘাঁটিতে পরাজয়
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৩:৫০ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৬ ১৪:০১ পিএম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
বহু বছর ধরে তিনি ছিলেন অদম্য, অপরাজেয়, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। কিন্তু সোমবার সেই শক্তিশালী নেতা- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ ঘাঁটিতেই হেরে গেলেন। তার রাজনৈতিক দুর্গ ভেঙে পড়েছে, আর তার দল এখন দ্বিতীয় সারির ভূমিকায়।
তাহলে এখন কী হবে বিরোধী শিবিরের এই প্রখর নেতার? এটা কি তবে ভারতীয় জনতা পার্টির বিস্তারের পথে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক বাধাগুলোর পতনের সূচনা? আপাতত তা মনে হলেও, দিদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন- তিনি এত সহজে হার মানার পাত্র নন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। তবে ৭১ বছর বয়সী মমতার জন্য এই পরাজয় শুধু একটি ধাক্কা নয়- এটা সময় ফুরিয়ে আসার কঠিন বাস্তবতারও স্মারক।
মমতার লড়াই কতদূর?
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১৫ বছর ধরে বিজেপির শক্তিশালী ও অনেকের মতে সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে ঠেকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু এবার সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়েছে।
বিজেপির জোরালো ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণার সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি দিদি। যদিও তিনি ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন জিতেছিলেন, তবে প্রতিবারই লড়াই কঠিন হয়ে উঠছিল। বিজেপি ২০১৬ সালে যেখানে মাত্র ৩টি আসন পেয়েছিল, ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭-এ, আর এখন ২০৬।
পরাজয়ের পরও মমতা আগের মতোই ‘আগ্রাসী’। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে বলেন, “১০০টির বেশি আসন বিজেপি লুট করেছে… নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশন।”
এখন তিনি এই পরাজয়কে ‘গণতন্ত্রের বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে তুলে ধরছেন এবং ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ ইস্যুকে আবারও সামনে আনতে পারেন।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করা। সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়া তিনি কতটা শক্তভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন- সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের নির্বাচনি চক্রের প্রথমার্ধ বিজেপির জন্য বড় সাফল্য- একটি রাজনৈতিক শক্তি ও আদর্শ এখন আরও সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী নির্বাচনি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি