জাহাঙ্গীর সুর
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ০৯:০১ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের আভাস পেয়ে সোমবার উল্লাস নেতা-কর্মীদের। ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশের দোরগোড়ায় উড়ল গেরুয়া পতাকা। অভূতপূর্ব ও ভূমিকম্পসম পালাবদল ঘটে গেল পাশের ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে। বাংলায় পদ্ম ফুটল। রচিত হলো তৃণমূল কংগ্রেসের বিষাদময় মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্য শাসন করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের পায়ের তলার মাটি আক্ষরিক অর্থেই সরে গেছে। বাংলার বুকে প্রথমবারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কলকাতার দুই বিশেষজ্ঞ মিশ্র বার্তা দিয়েছেন।
২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে গতকাল ফল প্রকাশ হয়েছে ২৯৩টির। সরকার গঠনে দরকার ছিল মাত্র ১৪৭ আসন। ২০৮টি আসন জিতে গেরুয়াশিবির প্রমাণ করেছে তাদের এই জয় নিছক কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ফল নয়, বরং এটি এক গভীর ‘নীরব সুনামি’। অন্যদিকে ২০২১ সালে ২১৫টি আসন পাওয়া তৃণমূল এবার মাত্র ৭৯টিতে নেমে এসে এক অভাবনীয় পতনের সাক্ষী হলো। এমনকি ভবানীপুর আসনেও বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন মমতা।
একদিকে যখন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উল্লাস আর আবির খেলায় রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে তখন তৃণমূল শিবিরে শ্মশানের নীরবতা। এমনকি গতকাল খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহর যখন কলকাতার রাজপথ পেরোচ্ছে, তখন রাস্তার পাশ থেকে শোনা যায় ‘চোর চোর’ স্লোগান। যে নেত্রীকে একসময় বাংলার মানুষ ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে মাথায় তুলে নিয়েছিল, তার এমন বিদায় যেন অভাবনীয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় এই জয়কে ‘অবিস্মরণীয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ‘বাংলার জনগণ অনুপ্রবেশকারী ও তাদের মদদদাতাদের এমন এক শিক্ষা দিয়েছে, যা তোষণকারী রাজনীতির কারবারিরা কখনোই ভুলতে পারবে না।
মমতার পতন কেন হলো
তৃণমূল কংগ্রেসের এই পতনের নেপথ্যে কেবল একটি কারণ দায়ী নয়, বরং দেড় দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাই কাল হয়েছে দলটির জন্য। প্রথমত, টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে ভয়াবহ প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের চিন্তাশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকেরা দীর্ঘকাল ধরে স্থবিরতা অনুভব করছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. সাগর তরঙ্গ মণ্ডল গতকাল হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের এই পতনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের আপামর জনসাধারণ পরিবর্তন চাইছিল। পথভ্রষ্ট ও স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগই ছিল তাদের হাতে থাকা একমাত্র হাতিয়ার। কর্মসংস্থান নেই, ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা নেই, নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যপরিষেবা। জুটেছে কেবল খয়রাতি আর ভর্তুকি। রাজ্যের এই করুণ দশা আজকের দিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও স্বপ্নদর্শী বাঙালিদের আর সন্তুষ্ট করতে পারছে না।’ তার এই মূল্যায়ন রাজ্যের মধ্যবিত্ত শ্রেণির হতাশারই প্রতিধ্বনি। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত বা চিন্তাশীল শ্রেণি সমাজে এক বিশাল অর্থনৈতিক বৈষম্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখছিলেন। কারণ বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে করছাড় বা অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে তাদের ভাগ্যে কোনো স্বস্তিই জোটেনি। সমাজের একপক্ষ কেবল কর গুনেছে, অন্যপক্ষ কর্মসংস্থানের বদলে পেয়েছে অনুদান। আর এক বিশেষ শ্রেণিÑ যারা রাজনীতির কারবারি, তারা দেদার সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা কুক্ষিগত করেছেন এবং নিজেদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি জাহির করতে এতটুকুও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়। ৪ মের নির্বাচনী ফলাফল তারই এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন।’
তৃণমূলের পতনের দ্বিতীয় বড় কারণ ছিল নারী ভোটারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে যারা দুহাত ভরে মমতাকে ভোট দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের আরজি কর মেডিকেল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর তারা আর তৃণমূলের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি। রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি প্রকট হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়াও তৃণমূলের ভোটব্যাংকে বড় ধস নামিয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই এসআইআর এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে ‘ভোট চুরি ও কেন্দ্রের প্রভাব’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেখেছেন। তিনি গণনা প্রক্রিয়া ‘অস্বাভাবিক ধীরগতি’ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই অভিযোগ ধোপে টেকেনি। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাসু আচার্য গতকাল যেমনটা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘তৃণমূলের সামগ্রিক অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা একেবারে স্পষ্ট। জনগণ দেখেছে, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আছে এবং তৃণমূলের লাগামছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা তাই বিজেপিকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।’ তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ পৌরোহিত্যে নির্বাচন কমিশন যেভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, তাতে এই ফলাফলকে জনরায়ের সামগ্রিক প্রতিফলন বলা যায় না।’
যেখান থেকে শুরু বিজেপির এই বিজয়যাত্রা
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয় রাতারাতি আসেনি। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর শেকড় লুকিয়ে আছে দলটির আদর্শিক পিতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রধান রাস্তা এসপি মুখার্জি রোড, যা কাকতালীয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসস্থান কালীঘাট ও নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৫১ সালে জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে এই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ভারতীয় জনসংঘ’Ñ যা আজকের বিজেপির পূর্বসূরি।
তৃণমূল যখন বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে আক্রমণ করেছে, বিজেপি তখন বারবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে তাদের শেকড় বাংলার মাটিতেই। ২০১৬ সালে বিধানসভায় মাত্র ৩টি আসন পাওয়া দলটি, ২০২১ সালে ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। আর ছাব্বিশে সেই অঙ্ক ২০৮-এ গিয়ে ঠেকল। এই দীর্ঘ যাত্রায় বিজেপির মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতাই তাদের আজকের এই বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়ের পর লিখেছেন, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অগণিত কার্যকর্তার নিরলস প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত সংগ্রাম ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তাদের প্রত্যেককে আমি সশ্রদ্ধ কুর্নিশ জানাই। বছরের পর বছর ধরে সবরকম প্রতিকূলতা ও বাধাবিপত্তিকে জয় করে তারা তৃণমূল স্তরে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন; মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন আমাদের উন্নয়নের বার্তা।’
বিশ্লেষকদের চোখে ভবিষ্যতের পশ্চিমবঙ্গ
বিজেপির এই নিরঙ্কুশ বিজয়কে ঘিরে বাংলার সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অন্দরমহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একদিকে যেমন রয়েছে নতুন আশার আলো, অন্যদিকে রয়েছে গভীর শঙ্কা।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাগর তরঙ্গ মণ্ডল মনে করেন, ‘দীর্ঘ স্থবিরতার পর আসা প্রতিটি পরিবর্তনের মতোই, এক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ কিছুটা ধোঁয়াশায় ঘেরা। একবুক প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ। সমাজের বৃহত্তর অংশ, যেমনÑ দিন-আনা, দিন-খাওয়া প্রান্তিক মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বেকার যুবক-যুবতীদের এক বিশাল অংশের কাছেও এই পরিবর্তন নিরাশাজনক নয়, বরং নতুন আশার আলো।’ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসায়, রাজ্যে শিল্পের প্রসার এবং চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন কমিশনের মতো আর্থিক সুবিধাগুলো চালুর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সদিচ্ছা ও ক্ষমতার ওপর মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আস্থা রাখতে চাইবেন। একইভাবে জেলা ও মফস্বলের মানুষেরাও উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, কৃষি সংস্কার ও উন্নততর স্বাস্থ্যপরিষেবার আশায় বুক বাঁধছেন।’
তবে ড. মণ্ডল স্বীকার করে নেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি সম্ভবত অপেক্ষা করে আছে সংস্কৃতি ও শিক্ষার আঙিনায়। মুক্তচিন্তা ও ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনে কেমন থাকবে? নাকি, বিজেপি বাংলার মাটি ও মানুষের কথা মাথায় রেখে নিজেদের ভাবমূর্তির পরিমার্জন ঘটিয়ে নিজেদেরকে এই ‘মাটির খাঁটি সন্তান’ হিসেবে প্রমাণ করবে? এর উত্তর একমাত্র সময়ই দিতে পারবে।’
অন্যদিকে লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাসু আচার্যের মূল্যায়ন অত্যন্ত কড়া ও সতর্কতামূলক। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই বিজেপি সরকার কতটুকু নৈরাজ্য দূর করবে বা দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ বিজেপি সরকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু ও মুসলমানÑ উভয়েরই কর্মভূমি ও বাসস্থান। বাংলাকে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বিভক্ত করা, একটি সম্প্রদায়কে ভীতসন্ত্রস্ত রাখা এবং অন্য সম্প্রদায়কে ভয়াবহ আধিপত্যকামী করে তোলা কোনো শুভ লক্ষণ নয়। এর মধ্য দিয়ে শাসকদল কেবল নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
বাসু আচার্য উদ্বেগের সঙ্গে বললেন, ‘বাংলার জনগণ যেন উত্তপ্ত চাটু থেকে ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে এসে পড়ল।’ তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে মানুষের অধিকার রক্ষায় বামপন্থীদেরই রাস্তায় থাকতে হবে এবং তারা থাকবেন। এবারের নির্বাচনের অন্যতম শুভ লক্ষণ হচ্ছে একটি আসনে হলেও বামপন্থী প্রার্থীর জয়।’
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে কারা
এবারের নির্বাচনে নজরকাড়া লড়াই হয়েছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে ভবানীপুরে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে বিজেপির হয়ে কঠিন লড়াইয়ে নেমেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রায় অনেকেই এবার কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। বিজেপির বিপুল ঝড়ে তৃণমূলের অনেক বাঘা বাঘা মন্ত্রী ও নেতা নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগেই অমিত শাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই বাংলারই ভূমিপুত্র। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রমতে, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নন্দীগ্রামের রূপকার ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মমতার দুর্গে আঘাত হানার প্রধান সেনাপতি ছিলেন তিনিই। এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাবেক সভাপতি ও দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাবেক রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকেই।
বাংলার মানুষ কখনোই সহজ শ্রোতা নয়। এই জনপদ কোনো নির্দিষ্ট সাম্রাজ্য বা মতাদর্শের কাছে চিরতরে মাথা নত করেনি। বিজেপি কেবল একটি দল হিসেবে নয়, বরং বাংলার মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যতের এক নতুন ‘আবেগের চুক্তি’ করে এই জয় ছিনিয়ে এনেছে। যেখানে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি আছে, স্থবিরতা কাটানোর অঙ্গীকার আছে এবং পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা আছে। তবে মমতার পতনের মধ্য দিয়ে যে শূন্যতা ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সৃষ্টি হলো, তা বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতিকে আগামী দিনগুলোতে ঠিক কোন পথে পরিচালিত করবেÑ তা দেখার অপেক্ষায় ভারতবর্ষ। বাংলাদেশও।