আইআরজিসির হুমকি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১০:০০ এএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬ ১০:০০ এএম
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে ইসরায়েলের বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে বিক্ষোভ করে। ছবি: এএফপি
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ও সৈন্যদের জন্য ‘কবরস্থানে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন সাবেক কমান্ডার ও তেহরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি অবরোধকারী যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে ‘জলদস্যুদের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। খবর এএফপি/আল জাজিরা।
গতকাল রবিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের বিমানবাহী রণতরী আছে। জলদস্যুদের মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।”
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান আইআরজিসির ভূপাতিত করার ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “আপনাদের রণতরী এবং বাহিনীকে কবরস্থানের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুত রাখুন। ঠিক যেভাবে আপনাদের বিমানের ধ্বংসাবশেষ ইসফাহানে পড়েছিল।”
আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে। দেশের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ শেষ করার জন্য তেহরান একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপের অবস্থানের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এই সময়সীমাটি ঠিক কবে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
এক্সে দেওয়া পোস্টে আইআরজিসি জানায়, “এর একটিই ব্যাখ্যা হতে পারে, ট্রাম্পকে হয় অসম্ভব সামরিক অভিযান অথবা ইরানের সঙ্গে বাজে চুক্তির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে।”
যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
বর্তমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম গরিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে, অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন দেশটির। তারা কি কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবেÑ ইরান দুই পথের জন্যই প্রস্তুত।’ ওয়াশিংটনও বারবার স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের চুক্তি ছাড়া তারা যুদ্ধ থামাবে না।
গত ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছেÑ এমন অভিযোগ তুলে হামলা শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও ইরান বরাবরই তাদের এ কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
হরমুজ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের বিনিময়ে ইরানকে অর্থ না দিতে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যারা এ নিয়ম ভাঙবে, তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরানের তেলের আয় বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে তাদের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সতর্কবার্তায় ওয়াশিংটন জানায়, ইরানকে শুধু নগদ অর্থই নয়, কোনো ধরনের ডিজিটাল সম্পদ, পণ্য বিনিময় কিংবা ইরানি দূতাবাসে দান হিসেবেও কোনো অর্থ দেওয়া যাবে না।