× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটফল আজ

ফের দিদি নাকি মোদি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ০৯:২৪ এএম

বুথফেরত জরিপগুলোতে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং কোনো কোনোটিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও, এসব জরিপকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মমতা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বুথফেরত জরিপগুলোতে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং কোনো কোনোটিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও, এসব জরিপকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মমতা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চারবার, নাকি হারবার মুখে দাঁড়িয়ে আছে মমতার নেতৃত্বভাগ্যÑ আজই তা জানা যাবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হটিয়ে বাংলা জয়ের ব্যাপারে সমান আত্মবিশ্বাসী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিও।

এবার নির্বাচনি প্রচারে বাংলাদেশ ইস্যুও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ছিল। আজ ভোটগণনা শেষে চূড়ান্ত হবে রাজ্যটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তবে কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই নেতৃত্বের মধ্যে অনাস্থা ও অবিশ্বাসের মাত্রা এত চরমে উঠেছে যে, ভোটগণনা ও ফল প্রকাশ নিয়েও শোরগোলের আশঙ্কা রয়েছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীর নিরাপত্তা, সুশাসন, শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আত্মপরিচয় নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের পাশাপাশি নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা, নথিবিহীন অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে চরম বিরোধ; সব মিলিয়ে একাধিক বিতর্কের টানাপড়েনে এবারের নির্বাচনী প্রচার ছিল অস্বাভাবিক রকম উত্তপ্ত। 

অভাবনীয় ভোটপ্রদান

এবারের নির্বাচন ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা ও নজিরবিহীন। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবার রাজ্যে রেকর্ড ৯২.৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা রাজ্যটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মমতা। অন্যদিকে এই বিপুল পরিমাণ ভোটদানকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে বিজেপি।

মমতার আত্মবিশ্বাস

ভোটগণনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রবল আত্মবিশ্বাসী। বুথফেরত জরিপগুলোতে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং কোনো কোনোটিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও, এসব জরিপকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মমতা।

দলীয় এজেন্টদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি দাবি করেছেন, বুথফেরত জরিপগুলো কেবল বাজারকে প্রভাবিত করার কৌশল মাত্র। তার দৃঢ় বিশ্বাস, তৃণমূল কংগ্রেস এবারও দুইশর বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার জরিপ সংস্থাগেুলোকে প্রকৃত চিত্র তুলে না ধরে বিজেপির পক্ষে জরিপের ফল প্রকাশে চাপ দিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ হলেও, তৃণমূলের লক্ষ্য এর চেয়ে অনেক বেশি আসন নিশ্চিত করা, যাতে বিজেপি কোনোভাবেই বিধায়ক কিনে সরকার গড়ার সুযোগ না পায়।

এই নির্বাচনে জয়ী হলে টানা চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হবেন ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী। মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০১১ সালে ১৮৪টি, ২০১৬ সালে ২১১টি ও ২০২১ সালে ২১৫টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। 

বিজেপির বাংলা জয়ের স্বপ্ন

অন্যদিকে দিদিকে হটিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলার ক্ষমতায় আসার জন্য মরিয়া বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির শীর্ষ নেতারা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন।

২০২১ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা দলটি এবার অন্তত ১৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার লড়াইটি এবারও সবার মনোযোগ কেড়েছে। 

ফলতায় আবার ভোটগ্রহণ ২১ মে

রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ফলাফল জানা গেলেও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা আসনের ফল এখনই মিলছে না। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২৯ এপ্রিল সেখানে ভোটগ্রহণের দিন ইভিএম টেম্পারিং ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশন সেখানকার ২৮৫ বুথের সবটিতে ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এই আসনের ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

এবারের নির্বাচন শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ভারতের জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি বড় নিয়ামক। দ্য টেলিগ্রাফে বিশ্লেষক দেবদান মিত্র তার মূল্যায়নে বলেছেন, “এই ফলাফল শুধু মমতা সরকারের মূল্যায়ন নয়, বরং বিজেপির সম্প্রসারণ ক্ষমতার একটি গণভোট।

“তৃণমূল জিতলে প্রমাণিত হবে যে, শক্তিশালী জনকল্যাণমূলক নেটওয়ার্ক ও নিজস্ব পরিচয়ের আখ্যান নিয়ে আঞ্চলিক দলগুলো বিজেপির বিশাল সাংগঠনিক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম।”

অন্যদিকে ফ্রন্টলাইনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি সাহিত্যের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অপূর্বানন্দ মনে করেন, বিজেপির জয় বাংলার জন্য সুখকর হবে না। তার মতে, “যদি এই নির্বাচন একটি স্বাভাবিক সংসদীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে হতো, তবে ১৫ বছর পর ক্ষমতার পালাবদল স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত হতে পারত। কিন্তু বিজেপি কোনো উত্তম বিকল্প হতে পারে না, কারণ তারা রাজতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে কাজ করে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়াকে অসার করে দেয়।”

যাহোক, আজ ব্যালট বাক্স ও ইভিএম খোলার পরই পরিষ্কার হবে শেষ হাসি কে হাসছেন, মমতা নবান্ন ছাড়ছেন নাকি আরও পাঁচ বছরের জন্য বাংলার মসনদ তারই থাকছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা