প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ২১:০৮ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৬ ২২:৪২ পিএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে তিব্বতে চীনের কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট বিলটি উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত এই আইনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) নির্দেশ দেওয়া হবে তিব্বতে চীনের কার্যকলাপ তদন্ত করে তা গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে কিনা সে বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবেদন দিতে। বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তিব্বতের জনগণের অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং এসব অপরাধ উপেক্ষা করা যাবে না।
সিনেটর স্কট তার বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, চীনা সরকার তিব্বতে “পদ্ধতিগত হত্যা, নির্যাতন, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং সরকার-সমর্থিত অপহরণসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধে” জড়িত।
অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি টেনকো গাতসো বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে তিব্বতে সংঘটিত এসব নির্যাতন আড়াল করে এসেছে এবং ভুক্তভোগীদের অবমূল্যায়ন করেছে। তিনি বিলটি পাস হলে যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানান।
বিল অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিব্বতি সংস্কৃতি, ধর্ম ও ভাষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার সংগঠন, তিব্বতি অধিকারকর্মী এবং প্রবাসী তিব্বতিদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নীতিগত প্রতিক্রিয়া—যেমন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ—নিয়ে সুপারিশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনে তিব্বতে “গুম, নির্যাতন, স্বেচ্ছাচারী আটক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ”সহ গুরুতর উদ্বেগের কথা বারবার উঠে এসেছে।
বিলটি পাস হলে তিব্বতে চীনের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।