প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ১৪:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৬ মে ২০২৬ ১৫:৪৪ পিএম
কয়েক মাসের উত্তেজনার পর ভারত ও বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নিয়েছে। ছবি: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশ। ভারতের সব বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র- নয়াদিল্লির হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার অফিসগুলো এখন পুরোপুরি সচল রয়েছে।
২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে ভিসা দেওয়া হয়েছে। এই ভিসাগুলোর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক সফরের ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ পুনরায় জোরদারের ইঙ্গিত দেয়। খবর: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের
ধাপে ধাপে ভিসা চালুর পথে ভারত
ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার পক্ষ থেকে পারস্পরিক পদক্ষেপের আহ্বানের জবাবে ভারত কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। দিল্লির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ দিকে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা সেবা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে তা ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছিল। বিশেষ করে চিকিৎসা ও জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া হচ্ছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগের সক্ষমতার মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যায়ে রয়েছে। এতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা ও জরুরি পারিবারিক ভ্রমণের আবেদনগুলোকে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্পর্ক পুনর্গঠন
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং পরবর্তীতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানের ভারত সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। ঢাকা দ্রুত ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করার জন্য দিল্লির কাছে অনুরোধ জানায়।
অর্থনীতি ও জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা
দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন করে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ও সংসদীয় সফরসহ উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগও বাড়তে পারে।
ভারত ইতোমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট লাঘবে ডিজেল সরবরাহ শুরু করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাস্তবমুখী সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
সীমান্ত পারাপার ও পর্যটনে প্রভাব
ভারতের বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি। ২০২৩ সালে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণ করেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়ালেও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কঠোর ভিসা নীতির কারণে তা নেমে আসে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজারে।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারতীয় মিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভের পর ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কনস্যুলার সম্প্রসারণ
ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধি ও উন্নত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুই দেশের কনস্যুলার কার্যক্রম পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে ভিসা পুনরায় চালু শুধু ভ্রমণই বাড়াবে না, বরং ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিস্তৃত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংলাপের পথও সুগম করবে।