ট্রাম্পকে পুতিনের সতর্কবার্তা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ১২:০১ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হলে তার পরিণতি ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ ক্ষতিকর’ হতে পারেÑ এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। পুতিনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, বরং এর প্রতিবেশী দেশগুলো এবং গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ। তিনি জানান, দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা ও কার্যকর’। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধÑ দুই ইস্যুই গুরুত্ব পেয়েছে।
উশাকভ বলেন, দুই নেতা বিশেষভাবে ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পুতিন ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং উত্তেজনা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর সতর্কবার্তাও দেন। পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার পরিণতি হবে ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ’। এটি কেবল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। উশাকভ বলেন, এই ফোনালাপটি মস্কোর উদ্যোগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যদিও ইরান প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ট্রাম্প বলেন, পুতিন ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তবে তিনি রুশ নেতাকে আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বর্তমানে পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। উশাকভ জানান, ট্রাম্পের অনুরোধে পুতিন বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে, রুশ বাহিনী কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে।
এ সময় কিয়েভ সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন পুতিন। তার মতে, ভ্লাদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকার ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থনে সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে। তিনি আরও জানান, আসন্ন ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন, যা ট্রাম্প সমর্থন করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৯ মে রাশিয়ায় ‘ভিক্টরি ডে’ উদ্যাপন করা হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের স্মরণে পালিত হয়। এ উপলক্ষে মস্কোয় সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে চলতি বছর ইউক্রেনের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে ইরান ইস্যুতে পুতিনের এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঘটলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।