টাইমস অফ ইন্ডিয়া
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৯ পিএম
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ রাখা একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: ট্রুথ সোশ্যাল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে চিহ্নিত একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চলমান যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বৃহস্পতিবার কোনো ক্যাপশন ছাড়াই এই মানচিত্রটি পোস্ট করেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে এক বক্তব্যে তিনি ভুলবশত প্রণালিটির নাম ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বলে ফেলেছিলেন, যদিও পরক্ষণেই সংশোধন করে ‘হরমুজ’ বলেন। তবে সেই ভুলকে মজা করে তিনি বলেছিলেন, “দুঃখিত, ভয়ংকর ভুল হয়ে গেছে। ফেক নিউজ মিডিয়া বলবে আমি ভুল করেছি— কিন্তু না, আমার ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা দুর্ঘটনা নেই"।
ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প । তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকতে পারে।
ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরানের অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এখনই নতি স্বীকার করার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের নেতৃত্বে বর্তমানে কট্টরপন্থী নেতা আহমাদ ভাহিদির প্রভাব বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নয়। এর পরিবর্তে তারা বিকল্প কৌশল খুঁজছে। ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে তারা। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে পশ্চিমা জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও করছে তেহরান।
আর্থিক সংকটে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইকোনমিক ফিউরি নামক বিশেষ অভিযানের আওতায় ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং তেলবাহী গোপন জাহাজ বহরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, “ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’ এখন ধারণক্ষমতার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে ইরান তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে, যার ফলে প্রতিদিন তাদের প্রায় ১৭ কোটি ডলার সমমূল্যের রাজস্ব ক্ষতি হবে। এটি ইরানের তেল অবকাঠামোর স্থায়ী ক্ষতি করবে"।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যারাই ইরানের সঙ্গে অবৈধ লেনদেন বা তেল বাণিজ্যে সহায়তা করবে, তাদের ওপরই কঠোর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।