প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩২ এএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে একতরফাভাবে ‘বিজয়’ ঘোষণা করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তা বিশ্লেষণ করছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই সংঘাত হোয়াইট হাউসের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্রগুলো বলছে, এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চাইলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন। তবে দ্রুত উত্তেজনা কমানো গেলে রাজনৈতিক চাপ কিছুটা হালকা হতে পারে। যদিও এতে ইরান নিজেদের কৌশলগতভাবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে-বিশেষ করে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে বিজয় ঘোষণা করে সেনা উপস্থিতি কমালে ইরান সেটিকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে প্রচার করতে পারে। আবার সেনা উপস্থিতি বজায় রেখে এমন ঘোষণা দিলে তেহরান তা কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখলেও সংঘাত পুরোপুরি শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্র তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তিতে যেতে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এর ওপর চাপ পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, সামরিক বিকল্পগুলো এখনও খোলা থাকলেও বড় ধরনের পদক্ষেপÑ যেমন স্থল অভিযান এ মুহূর্তে তুলনামূলক কম সম্ভাবনাময়। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন করে বিমান হামলার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ ‘অত্যন্ত বেশি’। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা আংশিক পুনর্গঠন করছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতের ব্যয় আরও বাড়াতে পারে।