প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৮ পিএম
বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই। ছবি: এনডিটিভি
মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১৯ হাজার ৩০০ ভারতীয় টাকা। কিন্তু সেই টাকা তুলতে গিয়ে নিয়মকানুনের বেড়াজালে পড়ে দিশেহারা এক ভাই। শেষমেষ উপায় না দেখে বোনের কঙ্কাল কবর থেকে খুঁড়ে বের করে কাঁধে নিয়ে সোজা ব্যাংকে হাজির হলেন তিনি।
ভারতের ওড়িশার কেঁওঝড় জেলায় গত সোমবার ঘটে যাওয়া এই ঘটে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেঁওঝড় জেলার ডিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা জীতু মুন্ডার বোন কাকরা মুন্ডা দুই মাস আগে মারা যান। ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের মাল্লিপাসি শাখায় কাকরার একটি অ্যাকাউন্ট ছিল। তার স্বামী ও সন্তান আগেই মারা যাওয়ায় জীতুই ছিলেন তার একমাত্র উত্তরাধিকারী।
বোন মারা যাওয়ার পর তার অ্যাকাউন্টে থাকা ১৯ হাজার ৩০০ টাকা তোলার জন্য জীতু বেশ কয়েকবার ব্যাংকে যান। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার সাফ জানিয়ে দেন, হয় অ্যাকাউন্টধারী ব্যক্তিকে (বোনকে) সশরীরে উপস্থিত হতে হবে, অথবা জীতুকে আইনি উত্তরাধিকারী বা সাকসেশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
অসহায়ত্ব ও চরম সিদ্ধান্ত জীতু একজন নিরক্ষর আদিবাসী দিনমজুর। বোনের মৃত্যু সনদ বা আইনি কাগজপত্রের জটিল প্রক্রিয়া বোঝার মতো সক্ষমতা তার নেই। বারবার ঘুরেও সমাধান না পেয়ে তিনি এক চরম সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার কবরস্থানে গিয়ে বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করেন তিনি। এরপর সেই হাড়গোড় কাপড়ে মুড়িয়ে কাঁধে নিয়ে কাঠফাটা রোদে তিন কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছান ব্যাংকে।
ব্যাংকের সামনে জীতুকে কঙ্কাল কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান স্থানীয়রা। এই দৃশ্য দেখে কেউ ডুকরে কেঁদে ওঠেন, আবার কেউ
ব্যাংকের চরম সংবেদনহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাইলেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরপঞ্চের মাধ্যমে
বিষয়টি যাচাই করতে পারত। কিন্তু কাগজের দোহাই দিয়ে একজন দরিদ্র মানুষকে এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জীতুকে শান্ত করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে জীতু যেন তার বোনের টাকা পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন গ্রাহকের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো, সে বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।