প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫১ পিএম
দক্ষিণ লেবাননের আরনুন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ছবি: বিবিসি
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় রবিবার নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৭ জন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে সোমবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গ্রামে সতর্কতা জারি করে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আইডিএফ-এর একজন মুখপাত্র জানান, ওই অঞ্চলে অবস্থান করা বাসিন্দাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরবর্তীতে আইডিএফ নিশ্চিত করে যে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর আস্তানা এবং সদস্যদের লক্ষ্য করে ‘আর্টিলারি ও বিমান হামলা’ চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই স্থানগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েল অভিমুখে আসা হিজবুল্লাহর তিনটি ড্রোন সীমান্তে প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সরকারি সভায় বলেন, হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের ফলে যুদ্ধবিরতি ‘ভেঙে পড়ছে’। তিনি জানান, আইডিএফ পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননের সঙ্গে একমত হওয়া নিয়ম মেনেই জোরালোভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর অর্থ হলো কেবল হামলার জবাব দেওয়াই নয়, বরং যেকোনো আসন্ন হুমকি নস্যাৎ করার পূর্ণ স্বাধীনতা আমাদের রয়েছে”।
এর আগে গত শনিবারও নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ‘জোরালো হামলার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে ওইদিন অন্তত ছয়জন নিহত হন।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার আরও তিন সপ্তাহের জন্য বৃদ্ধি করা হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েল যেকোনো আসন্ন বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
এদিকে, এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রবিবার পাকিস্তানে গিয়েছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর রূপরেখা নিয়ে তিনি কাজ করছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন যাতে আলোচনার পথ খোলা থাকে।
আরাগচি শনিবার ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তবে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনার শিডিউল এখনো নির্ধারিত হয়নি।