প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪৫ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ০১:৩৯ এএম
ভারত বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যেখানে সৌর শক্তি দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে ভারতের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ গিগাওয়াট, তা বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ ১৫০ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে—যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এই দ্রুত বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো সৌর বিদ্যুতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া। ২০১০ সালের পর থেকে সৌর প্যানেলের দাম প্রায় ৯৫ শতাংশ কমেছে। যেখানে আগে প্রতি ওয়াট সৌর মডিউলের দাম ছিল ২০০ রুপির বেশি, তা ২০২৪ সালে নেমে এসেছে ৯ রুপির নিচে। ফলে সৌর বিদ্যুৎ এখন শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।
সাম্প্রতিক নিলামগুলোতে দেখা গেছে, ভারতে সৌর বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) মাত্র ₹২.৪৮ পর্যন্ত নেমে এসেছে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এমনকি সৌর ও বায়ু শক্তির সমন্বয়ে তৈরি হাইব্রিড প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও খরচ ₹৩.৪ থেকে ₹৫.৬-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যয় হ্রাসের ফলে সৌর বিদ্যুৎ এখন নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় সস্তা হয়ে উঠছে। ফলে উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
অন্যদিকে, ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন সৌর শক্তির সীমাবদ্ধতাকে অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিকভাবে ব্যাটারির খরচ ৪০ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৫ সালে আরও ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, সৌর বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি সংরক্ষণ একসঙ্গে ব্যবহার করে ভারত তার মোট বিদ্যুতের প্রায় ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে পারে, যার গড় খরচ হবে প্রতি ইউনিট ₹৫.০৬। এটি বিদ্যুৎ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সস্তা ও নির্ভরযোগ্য সৌর শক্তি ভারতের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করছে।