প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৫ পিএম
হরমুজ প্রণালির স্যাটেলাইট মানচিত্র। ছবি: বিবিসি
গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ইরানের একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
শিপিং ডাটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে যাতায়াতকারী জাহাজের এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নগণ্য।
শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিআইএমসিওয়ের প্রধান নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কর্মকর্তা জ্যাকব লারসেন বলেন, “অধিকাংশ শিপিং কোম্পানির জন্য এখন একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধের উভয় পক্ষের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকার নিশ্চয়তা প্রয়োজন”।
তিনি আরও যোগ করেন, নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজগুলো ইরান ও ওমানের উপকূল ঘেঁষা রুটগুলো ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে এই রুটগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় এগুলো দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের মতো বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচল নিরাপদ নয়।
মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্ম এবং কেপলারের ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘নিকি’ ওই পাঁচটি জাহাজের অন্যতম। জাহাজটি কোনো গন্তব্য উল্লেখ না করেই প্রণালিটি পার হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।