প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪০ এএম
আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৩ পিএম
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি। ছবি: শিপঅ্যাটলাস, মেরিটাইম অপটিমা
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। সংস্থাটি ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসে পেন্টাগনের একটি গোপন ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়, প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে ২০টিরও বেশি মাইন পাতা থাকতে পারে।
আরো পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসালেই গুলি চালানোর নির্দেশ ট্রাম্পের |
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব মাইনের কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে মোতায়েন করা হয়েছে, যা সেগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা আরও জটিল করে তুলছে। এই মূল্যায়ন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করেছে। কারণ এতে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশেষ করে তেল ও জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, ইরান হয়তো মাইনগুলো সরিয়ে ফেলেছে বা সরিয়ে নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অধিকাংশ ‘মাইন ড্রপার’ ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই এলাকায় নিরাপদ নৌপথের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
প্রণালিটিতে মাইন পাতা নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় মার্চের শুরুতে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, বড় জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর ছোট নৌযান ব্যবহার করে এসব মাইন মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ডও এ নিয়ে মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসে সংক্রান্ত সব প্রশ্ন পেন্টাগনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।