× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুদ্ধবিরতির মাঝেই যুদ্ধের মহড়া

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫২ এএম

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত সাংবাদিক আমল খলিল। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত সাংবাদিক আমল খলিল। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

আলোচনা শুরু হয়েও ভেস্তে যাচ্ছে, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে চলছে নাটক ছাড়িয়ে যাওয়া নাটকীয়তা। এদিকে হরমুজ প্রণালি কখনও খোলা হচ্ছে, আবার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। দাবি-পাল্টাদাবি, হুঙ্কার-পাল্টা হুঙ্কার পরিণত হয়েছে নৈমিত্তিক বিষয়ে। এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও যুদ্ধের মহড়া থেমে নেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের। 

মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে কোনো নৌযানকে মাইন স্থাপন করতে দেখলে তাদের ওপর গুলি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। 

পোস্টে লেখেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, হরমুজ প্রণালির জলসীমায় কোনো নৌযানÑ সেটি যত ছোটই হোক না কেন, যদি মাইন বসাতে দেখা যায়Ñ তবে তাদের গুলি করে ধ্বংস করে দিতে হবে।” 

এদিকে যুদ্ধবিরতির মাঝেই তেহরানের রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শন করেছে ইরান। খোরামশাহ, কাদেরের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়ে রীতিমতো মহড়া হয়ে গেল। সেই মহড়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে তেহরান। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাজার হাজার ইরানবাসী হাতে পতাকা নিয়ে এই প্রদর্শনীতে শামিল হয়েছেন। রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে মেতেছেন। 

গত বুধবার নতুন করে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়েছে আমেরিকা। তার মধ্যেই ইরানে এই সমরাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শনী প্রকাশ্যে এলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে সরাসরি জবাব দিতে চেয়েছে ইরান। কারণ সামরিক সংঘাত চলাকালীন ট্রাম্প বারবারই দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার ফুরিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের সেই দাবিকে অসার প্রমাণ করে দিয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা হতেই ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া দিয়েছে তারা।

ইরানের বন্দরে গত ১৩ এপ্রিল থেকে অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ফাঁকি দিয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা জানিয়েছে, গত ১৩ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এই চালানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ করা এলাকা পার হতে সক্ষম হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানি বন্দর বা হরমুজ প্রণালির খুব কাছে কার্যকর করা হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ১৩ থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে মোট ৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করেছে। এদিকে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধের অংশ হিসেবে তারা এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলা জাহাজের কাছ থেকে প্রথম টোল সংগ্রহের খবর জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি বাবেই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলা জাহাজের ওপর টোল বা রাজস্ব আরোপের পর প্রথম সংগৃহীত অর্থ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে। ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন তৎপরতা, দুটি রণতরিসহ ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের গুন্ডামির কাছে মাথা নত করবে না। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ চললে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।

গত দুই সপ্তাহে ইরান একবার হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ঘোষণা করে আবার তা বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরান সব শর্ত মেনে নিয়েছে, আবার পরক্ষণেই তিনি ইরানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওয়াশিংটন ও তেহরান যেসব ঘোষণা দিচ্ছে, অপরপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তা অস্বীকার করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন কূটনীতি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা। তবে ইরান আলোচনা থেকে পুরোপুরি সরেও আসেনি। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় তারা এখনও আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। 

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার খবরে বেড়েছে তেলের দাম। দেশটিতে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হাতে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজার চড়া হতে শুরু করে।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৩ ডলারের (৭৬ দশমিক ৩৫ পাউন্ড) কাছাকাছি অবস্থান করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের বাজারদর ৯৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আগামী রবিবার শেষ হচ্ছে বলে ইসরায়েলকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (কেএএন) বলেছে, তেহরানের জন্য ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছেÑ এমন বার্তা তেল আবিবকে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে তেহরানের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছতে চাইছেন।

লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক আমল খলিলের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। বুধবার হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লেবাননি সংবাদমাধ্যম নাহারনেট জানিয়েছে, নিহত আমল খলিল রিপোর্টার ছিলেন। খলিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অংশ থেকে লড়াইয়ের খবর সংগ্রহ করে আসছিলেন। বুধবার সকালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে খলিলকে উদ্ধার করার অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানায়। আরএসএফ তখন বলেছিল, “তার জীবন এখন ঝুঁকির মুখে আছে। ধারাবাহিক ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে উদ্ধারকারীরা তার কাছে পৌঁছতে পারছে না।”

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তখন লেবাননি রেডক্রসকে খলিলকে উদ্ধার করতে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই খলিলের মৃত্যুর খবর আসে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা