আল জাজিরা
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৬ পিএম
লেবাননের বৈরুতে সরকারি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। ছবি: আল জাজিরা/রয়টার্স/ মোহাম্মদ আজাকির
লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তিতে বৈরুত সই করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে বৃহস্পতিবার তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এদিকে প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাম বলেন, “আমরা তথাকথিত কোনো ‘বাফার জোন’ বা লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নিতে পারি না। এমন কোনো পরিস্থিতি কাম্য নয় যেখানে বাস্তুচ্যুত লেবাননিরা তাদের ঘরে ফিরতে পারবে না কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রাম ও শহরগুলো পুনর্গঠন করা যাবে না”।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এই বিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় বসছি যে, একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা আশা করি তারা ইসরায়েলের ওপর এই প্রভাব খাটানো অব্যাহত রাখবে”।
ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম প্রধান দাবি ‘হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনার টেবিলে বসার অর্থ এই নয় যে লেবানন কোনো বিষয়ে ছাড় দিচ্ছে বা নতি স্বীকার করছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বলেন, “আমি জানি না আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত আমরা কী অর্জন করতে পারব, তবে আমি জানি আমরা ঠিক কী চাই”।
বৃহস্পতিবারের এই আলোচনাকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর এমন অনড় অবস্থান আলোচনার ফলাফলকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।