× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইরানের সঙ্গে শান্তি কেন এখনও সম্ভব?

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪২ পিএম

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৩ পিএম

ইরানের সঙ্গে শান্তি কেন এখনও সম্ভব?

ইরানকে আলোচনার টেবিলে দুর্বল অবস্থানে আনতে এবং কৌশলগত সুবিধা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। আকাশপথে হামলার পাশাপাশি এখন সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মতো কঠিন সামরিক কৌশলও গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ করা, যাতে দেশটির বাণিজ্য ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রপথে মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন অসমমিত হুমকি মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ কার্যকর রাখা।

অবরোধ কৌশল মূলত একটি প্রচলিত যুদ্ধনীতি, যার উদ্দেশ্য হলো কোনো দেশের অর্থনীতি দুর্বল করে তাকে আলোচনায় বাধ্য করা। ইরানের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটি প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এই সরবরাহ বন্ধ হলে তেহরানের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে।

তবে ইরান সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে না গিয়ে অসমমিত কৌশলেই জোর দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুতগতির নৌকা, সমুদ্র মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে তারা সমুদ্রপথে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্র মাইন তুলনামূলকভাবে সস্তা হলেও তা শনাক্ত করা কঠিন এবং জাহাজ চলাচলে ভীতি সৃষ্টি করতে সক্ষম।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ শুধু জাহাজ চলাচল বন্ধ করাই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সম্প্রতি ওমান উপকূল ঘেঁষে জাহাজ চলাচলের একটি প্রস্তাব দিয়ে ইরান কিছুটা কৌশলগত নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। এটি পুরোপুরি পিছু হটা নয়, বরং একটি সীমিত সমাধানের পথ, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ কমানোর পাশাপাশি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় সময়ক্ষেপণ, জটিলতা তৈরি এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলার কৌশলে পারদর্শী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় সেই কৌশল আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে আসা, যেখানে তাদের হাতে আর বড় কোনো দরকষাকষির উপায় থাকবে না। সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট এবং সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি—সব মিলিয়ে তেহরানকে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ইরান পুরোপুরি প্রণালী বন্ধ না করেও কেবল হুমকি সৃষ্টি করেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেও উভয় পক্ষের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ ইঙ্গিত দেয় যে, চাপ ও আলোচনার সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা