জাতিসংঘ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংক্রান্ত যুদ্ধনীতির ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংক্রান্ত যুদ্ধনীতির ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর ওচা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, প্রতিদিনের যুদ্ধ ব্যয়ের অর্থ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল।
লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের জরুরি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন মাত্র ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচানো যেত।
ফ্লেচার আক্ষেপ করে বলেন, “এই যুদ্ধের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের খরচেই আমরা পুরো বছরের মানবিক সহায়তার তহবিল জোগাড় করতে পারতাম।” বর্তমানে জাতিসংঘের মানবিক তহবিলে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের ঘাটতি রয়েছে, যা তিনি ‘প্রলয়ংকরী সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ সামরিক ব্যয় বাড়াতে গিয়ে বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে বৈশ্বিক মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ মতো বক্তব্যের সমালোচনা করে ফ্লেচার বলেন, এ ধরনের ভাষা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং অন্য নেতাদেরও একই পথে উৎসাহিত করে।
ফ্লেচারের মতে, এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে আরও তীব্রভাবে দেখা দেবে। এতে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যেতে পারে।
তিনি ব্রিটেনের বৈদেশিক সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন এবং বলেন, গত এক দশকে এই কাটছাঁট দেশটির বৈশ্বিক নেতৃত্বের সক্ষমতা দুর্বল করেছে।
এদিকে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্লেচার। তার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ড্রোন হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানবিক সহায়তা কর্মী নিহত হয়েছেন। বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিবৃতি নয়, ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।